ইরানে প্রতিবাদগুলো দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী সতর্কতা বাড়ছে এবং দুইটি প্রধান হাসপাতালই গুরুতর রোগীর ভিড়ের সম্মুখীন হয়েছে। চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কর্মীরা জানিয়েছেন যে জরুরি সেবাগুলো এখন অতিরিক্ত চাপের কারণে সীমিত হয়ে গেছে।
তেহরানের ফারাবি আই হসপিটাল, যা দেশের প্রধান চোখের বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র, জরুরি অবস্থায় প্রবেশ করেছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অ-জরুরি ভর্তি ও শল্যচিকিৎসা স্থগিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কর্মীকে জরুরি বিভাগে ডাকা হয়েছে।
শিরাজের একটি হাসপাতালের মেডিক্যাল কর্মী একই সময়ে জানান যে রোগীর প্রবাহ এতটাই বাড়ছে যে সার্জনের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। তিনি উল্লেখ করেন যে অনেক আহতের গুলি লাগা মাথা ও চোখের আঘাত রয়েছে, যা বিশেষজ্ঞ শল্যচিকিৎসার তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেছিলেন যে দেশটি “বড় সমস্যায়” এবং গুলি চালানো বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্রও গুলি চালাবে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে লিখিত পত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেছে যে আমেরিকাই প্রতিবাদগুলোকে “হিংসাত্মক বিদ্রোহমূলক কাজ এবং ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ” এ পরিণত করেছে। পত্রে ইরান আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে নিন্দা করেছে।
বহু আন্তর্জাতিক নেতা ও মানবাধিকার সংস্থা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবাদগুলো দেশব্যাপী দশকেরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দুইটি মানবাধিকার সংস্থা অনুযায়ী অন্তত ৫০ জন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ জন সদস্যের মৃত্যুও রেকর্ড করা হয়েছে।
বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে ইরানের অভ্যন্তরে রিপোর্টিং থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশের ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইকে কঠিন করে তুলেছে।
একজন ইরানি ডাক্তার স্টারলিং স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে শুক্রবার রাতে বিবিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ফারাবি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা এমন যে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ডাক্তার আরও উল্লেখ করেন যে অ-জরুরি রোগীর ভর্তি ও শল্যচিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কর্মীকে জরুরি সেবায় যুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা রোগীর জীবন রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
শিরাজের মেডিক্যাল কর্মী একটি ভিডিও ও অডিও বার্তায় জানান যে হাসপাতালে গুলি লাগা মাথা ও চোখের আঘাতের রোগী সংখ্যা বেড়েছে এবং সার্জনের ঘাটতি রোগীর সেবা প্রদানকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি রোগীর তীব্র অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের সংযোগে দৃষ্টিপাত করছেন। তারা উল্লেখ করেন যে ইরানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর বর্তমান চাপ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও দুর্বল করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রতিবাদে হাসপাতালগুলো রোগীর অতিরিক্ত প্রবাহের কারণে জরুরি সেবা প্রদানেই সংগ্রাম করছে, আন্তর্জাতিক নেতারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অধিকার রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য ও ইরানের জাতিসংঘ পত্রের মাধ্যমে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।



