শেরেবাংলা নগরে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১১টায় শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও প্রাক্তন বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন।
ফারুক উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নানা ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা চললেও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন না করে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা সংস্থার দায়িত্ব হল সকল বাধা দূর করে প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করা।
সম্প্রতি দেশে ঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ফারুকের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, কোনো গোষ্ঠী মানুষের প্রাণহানি করে নির্বাচনের ফলাফলকে বিকৃত করতে পারবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণ এই ধরনের হিংসা ও হুমকিকে ভোটের স্বচ্ছতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করে না।
ফারুকের মতে, নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো ষড়যন্ত্রের মুখে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ; তিনি দাবি করেন, অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ভাঙা ছাড়া নির্বাচনকে সুষ্ঠু করা সম্ভব নয়। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যাবে।
অনুষ্ঠানের সময় ফারুক জানান, গতকাল (শুক্রবার) রাতেই বিএনপি নেতা তারেক রহমান, যিনি পূর্বে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন, পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি যোগ করেন, তারেকের নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করবে।
সাম্প্রতিক জাকসুর ফলাফল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফারুক স্পষ্ট করেন, এই ফলাফল জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, অ.স.ম. আব্দুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নাও উভয়ই পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যা দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
ফারুকের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন ও নির্বাচনের সময়সূচি নিশ্চিতকরণ দলটির ভোটার ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। তবে সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
বিএনপি ও সরকারের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত শোকসভা রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন দিকনির্দেশনা নির্দেশ করেছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, এটাই ফারুকের শেষ বার্তা।



