মিরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের উকিলটোলা গ্রামে রাতের অর্ধরাতে গৃহলুটের ঘটনা ঘটেছে। রাতের প্রায় তিনটায় দুইজন তরুণ মালিকের মুরগির খামারে নকল পুলিশ পরিচয় দিয়ে পাঁচজন ডাকাত দরজা ভেঙে ঢুকে, পিস্তল দিয়ে হুমকি জানিয়ে মোটরসাইকেল, দুইটি মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।
ডাকাতদল মোট সাত থেকে আটজনের মধ্যে গঠিত ছিল; কিছু সদস্য দরজা ভাঙার সময়ই ভিতরে ঢুকে, আর অন্যরা বাইরের দিকে পাহারা দিচ্ছিল। ভুক্তভোগী আরাফাতুজ্জামান ও মো. ফয়সাল খান দুজনই তখন খামারে উপস্থিত ছিলেন। ফয়সাল খান মুরগির খাবার দিচ্ছিলেন, আর আরাফাতুজ্জামান বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। দরজায় নক নক শব্দে ‘পুলিশের লোক, থানা থেকে এসেছি’ বলে ডাকাতরা পরিচয় দিল, আর দরজা খুলতেই পিস্তলটি আরাফাতুজ্জামানের কপালে ঠেকিয়ে গৃহলুট সম্পন্ন হয়।
লুটের পর ডাকাতরা দুজনকে খামারের কাঠের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে চলে যায়। বেঁধে রাখা অবস্থায় দুজনের চিৎকার শোনা যায়, যা কাছাকাছি বসবাসকারী গ্রামবাসীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে মুক্ত করে। ভুক্তভোগীরা জানান, হুমকির মুখে তাদের ব্যাংকের বিকাশ পাসওয়ার্ড এবং ডেবিট কার্ডের পিন কোড জানাতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া, গৃহলুটের সময় তাদের মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলও নেওয়া হয়।
স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, এবং মিরসরাই থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগের লিখিত রেকর্ড পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতার করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী আরাফাতুজ্জামান ও মো. ফয়সাল খান উভয়েই স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিলের পরিকল্পনা করছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন, এ ধরনের নকল পুলিশ পরিচয়ের মাধ্যমে গৃহলুটের ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় শকগ্রস্ত হলেও দ্রুত সহায়তা করে দুজনকে রক্ষা করেছে, যা গ্রাম সম্প্রদায়ের সংহতি ও সতর্কতার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এ ধরনের নকল পরিচয় ব্যবহার করে গৃহলুট রোধে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি বাড়ানোর আহ্বান করা হচ্ছে।



