19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইন্টারিম সরকারের উপদেষ্টাদের পদত্যাগের ইচ্ছা, আইন উপদেষ্টা আসিফ নাজরুলের মন্তব্য

ইন্টারিম সরকারের উপদেষ্টাদের পদত্যাগের ইচ্ছা, আইন উপদেষ্টা আসিফ নাজরুলের মন্তব্য

ইন্টারিম সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নাজরুল আজ ঢাকার সিআইআরডিএপি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত নীতি সংলাপে জানিয়েছেন যে অন্তত তিন থেকে চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে অবিচারপূর্ণ আক্রমণ ও অশ্লীল অপমানের মুখে পদত্যাগের কথা ভেবেছিলেন, তবে সরকারী ঐক্য বজায় রাখতে তারা পদে রয়ে গেছেন।

নাজরুল উল্লেখ করেন, ধারাবাহিক অপমান, অশ্লীল ভাষা এবং মৃত্যুমুখী হুমকির মুখে কেউই এমন জীবনযাপন করতে চাইবে না। এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও তারা সরকারী দলবদ্ধতা রক্ষার জন্য পদে অবিচল ছিলেন।

চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন উপদেষ্টা যদি পদত্যাগ করেন, তবে তা অন্যদের মনোবল হ্রাস করবে এবং অতিরিক্ত দাবির জন্ম দেবে, যা কাজকে অপ্রতিহত করে তুলবে। তাই দলটি একসাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সংলাপের শিরোনাম ছিল “রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা” এবং এটি সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) দ্বারা আয়োজন করা হয়েছিল। সংলাপের সময় নাজরুল সরকারী নীতি ও সংস্কার নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় নাজরুল বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, তবে সরকারী কর্মীদের ক্ষেত্রে তা সীমিত। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে সমালোচনা করা প্রায়ই হৃদয়হীন স্তরে পৌঁছে, যদিও সরকার দশটি উদ্যোগের মধ্যে চারটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে, সমালোচকরা তবুও অগ্রগতি স্বীকার করতে অনিচ্ছুক।

সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন, ৫৪ বছর পর প্রথমবারের মতো উচ্চ আদালতে সম্পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়েছে, যা বিচারিক স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে। এছাড়া অদৃশ্যতা কমিশনের প্রতিষ্ঠা এবং নতুন মানবাধিকার কমিশনের আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় উন্নত বলে উল্লেখ করেন।

নাজরুল আরও জানান, সরকার এখন পর্যন্ত ২০,০০০ের বেশি হেনস্থা মামলা প্রত্যাহার করেছে, যার ফলে প্রায় পাঁচ লক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা বন্ধ হয়েছে। পাশাপাশি, লিগ্যাল এইড ডিরেক্টরেটের কার্যকারিতা দশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তিনি সংস্কারের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

এই সব অর্জনকে তিনি ইউনুসের নেতৃত্বে সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এই সংস্কারগুলোকে আরও শক্তিশালী করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদান রাখতে হবে বলে আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, উপদেষ্টাদের পদত্যাগের ইচ্ছা এবং তাদের অব্যাহত সেবা সরকারী ঐক্যের সংকটপূর্ণ মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে। যদি ভবিষ্যতে আরও চাপের মুখে উপদেষ্টা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা সরকারের নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য নতুন আলোচনার ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে সরকারী দলবদ্ধতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা এবং উল্লেখিত সংস্কারগুলোকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক পরিবেশে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments