ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানা থেকে গাঁজা চালান জব্দ না করে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুইজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুক্রবার রাতেই নেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ আহসান এবং কনস্টেবল আবু কাউছার। উভয়কে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ওবায়দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় দুইজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৫ জানুয়ারি ভোরে নবীনগর‑সলিমগঞ্জ সড়কের কানাবাড়ি মোড়ে টহলরত অবস্থায় এসআই জাহিদ আহসান ও কনস্টেবল আবু কাউছার একটি পিকআপ ভ্যান থামিয়ে নিয়েছিলেন। ভ্যানের মধ্যে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ছিল বলে জানা যায়।
তবে, গাঁজা চালানটি জব্দ না করে, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে চালানটি ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের নজরে এলে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দেন এবং নবীনগর থানার ওসিকে (অফিসার ইন চার্জ) দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ করেন।
নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এসপি স্যারের নির্দেশে তদন্ত করা হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। শুক্রবারই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই দুইজনকে রাতেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
অভিযুক্ত এসআই জাহিদ আহসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত কনস্টেবল আবু কাউছারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উভয়ই এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, গাঁজা পাচার সংক্রান্ত অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। স্থানীয় জনগণও এই ধরনের ঘুষের অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে যাওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে। গাঁজা চালান জব্দ না করার জন্য প্রযোজ্য আইনি ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তি কঠোর হবে বলে অনুমান করা যায়।
এই মামলায় আদালতে কী রকম রায় দেওয়া হবে এবং কী শাস্তি আরোপিত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ বিভাগের এই পদক্ষেপটি গাঁজা পাচার ও ঘুষের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য কঠোর তদারকি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের বিশ্বাস পুনর্স্থাপন করা যায়।



