বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিইও শাফিউল আজিমের কাছে যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ও নর্থ ওয়েস্ট অঞ্চলের আটজন সংসদ সদস্য চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ম্যানচেস্টার‑সিলেট সরাসরি ফ্লাইটের সম্ভাব্য স্থগিতের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন পল ওয়াহ (রচডেল), আফজাল খান (ম্যানচেস্টার রাশোলম), অ্যান্ড্রু গুইন (গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন), জিম ম্যাকমাহন (ওল্ডহ্যাম ওয়েস্ট, চাডারটন অ্যান্ড রয়টন), ডেবি আব্রাহামস (ওল্ডহ্যাম ইস্ট অ্যান্ড স্যাডলওয়ার্থ), সারাহ হল (ওয়ারিংটন সাউথ), নবেন্দু মিশ্র (স্টকপোর্ট) এবং জেফ স্মিথ (ম্যানচেস্টার উইথিংটন)। একই সঙ্গে চিঠির একটি কপি যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করেন, ম্যানচেস্টার‑সিলেট রুট যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য অপরিহার্য সংযোগের সেতু। রোগীর চিকিৎসা, জরুরি পারিবারিক সফর, মৃত্যুর পর শেষকৃত্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এই সরাসরি ফ্লাইটের ওপর নির্ভরশীল মানুষ সংখ্যা বিশাল।
বিমান বাংলাদেশে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বুকিং সিস্টেমে ম্যানচেস্টার‑সিলেট ফ্লাইটের কোনো তালিকা দেখা যাচ্ছে না, যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা কর্পোরেট ঘোষণার অভাব রয়েছে। এই অনিশ্চয়তা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষত বয়স্ক ও রোগী যাঁদের জন্য বিকল্প ইনডিরেক্ট ফ্লাইটের অতিরিক্ত খরচ ও শারীরিক কষ্ট বড় চ্যালেঞ্জ।
চিঠিতে তিনটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়েছে: প্রথম, রুটের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করা; দ্বিতীয়, স্থগিতের পেছনের যুক্তি ও কারণ ব্যাখ্যা করা; তৃতীয়, সেবা বজায় রাখতে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত জানানো। এসব তথ্যের অভাব বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং গ্রাহকের আস্থা ক্ষয় করে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এই রুটের বন্ধ হওয়া সরাসরি আয় হ্রাসের পাশাপাশি ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ম্যানচেস্টার‑সিলেট রুটের গড়ে মাসিক প্রায় ১,২০০ টিকিট বিক্রি হয়, যা কোম্পানির মোট আয়ের প্রায় ৩% অবদান রাখে। রুট বন্ধ হলে এই আয় হারিয়ে যাবে এবং বিকল্প রুটে রূপান্তরিত গ্রাহকদের অতিরিক্ত খরচ কোম্পানির সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে।
অতিরিক্তভাবে, এই রুটের বন্ধ হওয়া যুক্তরাজ্যের নর্থ ওয়েস্ট অঞ্চলের ব্যবসায়িক সংযোগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশি পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা সরাসরি ভ্রমণের সুবিধা হারালে ব্যবসায়িক মিটিং, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক চুক্তির গতি ধীর হতে পারে।
সংসদ সদস্যরা হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে রুটের পুনর্বিবেচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই রুটের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম, এবং নর্থ ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করে।
বিমান বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত রুটের স্থগিতের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। তবে চিঠিতে উল্লেখিত তিনটি প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত যাত্রী ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি বিকল্প রুটের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হবে, যা অতিরিক্ত খরচ ও সময়সীমা বাড়িয়ে দেবে।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, যদি রুটটি পুনরায় চালু না হয়, তবে একই গন্তব্যে অন্য এয়ারলাইনগুলির প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এটি বিমান বাংলাদেশে জন্য প্রতিযোগিতামূলক চাপ বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে রুট নেটওয়ার্কের পুনর্গঠনকে বাধ্য করতে পারে।
অন্যদিকে, রুটের স্থগিতের পেছনে সম্ভাব্য আর্থিক বা অপারেশনাল চ্যালেঞ্জের তথ্য না থাকায় বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। শেয়ার মূল্যের স্বল্পমেয়াদি পরিবর্তন এবং কোম্পানির ক্রেডিট রেটিংয়ে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংসদ সদস্যদের চিঠি এবং হাইকমিশনের সঙ্গে সমন্বয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, বিমান বাংলাদেশে শীঘ্রই রুটের অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট বিবৃতি প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই বিবৃতি বাজারের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ম্যানচেস্টার‑সিলেট সরাসরি ফ্লাইটের সম্ভাব্য স্থগিতের ফলে বিমান বাংলাদেশে আর্থিক ক্ষতি, গ্রাহক আস্থার হ্রাস এবং যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ওপর সামাজিক প্রভাবের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রুটের অবস্থা স্পষ্ট করা, কারণ ব্যাখ্যা করা এবং পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করা কোম্পানির জন্য তাত্ক্ষণিক অগ্রাধিকার।



