18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পাটের গুদামে অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ২৬০০ মণ পাট পুড়ে যায়

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পাটের গুদামে অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ২৬০০ মণ পাট পুড়ে যায়

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সদর দফতরে শুক্রবার রাত প্রায় আড়াই টায় সুনীল সাহার পাটের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দুই হাজার ছয়শত মণ পাট পুড়ে যায়। গুদামটি সরকারি টিএন্ডটি অফিসের সামনে অবস্থিত এবং এতে সুনীল সাহা, নির্মল বিশ্বাস ও একরাম মিয়ার পাটের দোকানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আগুনের সূত্রপাতের সঠিক সময় ও কারণ এখনও তদন্তাধীন, তবে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের মতে অগ্নিকাণ্ডটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। গুদামের দরজা রাতের আটটার দিকে বন্ধ হওয়ার পর অগ্নি বিস্তৃত হয়, ফলে পাটের গুদামটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

মুকসুদপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাস্টার মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে মুকসুদপুর ও কাশিয়ানি ফায়ার সার্ভিসের মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকল দলটি রাতের অল্প সময়ের মধ্যে আগুনের প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সম্পূর্ণ নিভে যাওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে শনিবার সকাল দশটা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। দমকল কর্মীরা গুদামের গঠন ও পাটের উচ্চ দাহ্যতা বিবেচনা করে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুনীল সাহা জানান, তিনি প্রতিদিনের মতো রাত আটটার দিকে গুদাম বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান এবং গুদামে তার নিজস্ব এক হাজার আটশো মণ পাট, নির্মল বিশ্বাসের তিনশো মণ এবং একরাম মিয়ার পাঁচশো মণ পাট ছিল। সব পাটই অগ্নিতে পুড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ক্ষতি তার জন্য আর্থিক ও মানসিকভাবে বড় ধাক্কা, এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছেন।

স্থানীয় পুলিশ দপ্তর ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে কোনো বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা মানবিক অবহেলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, তাই তদন্তের পরিধি বিস্তৃত করে গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুদাম পরিচালনার পদ্ধতি এবং আগুনের সম্ভাব্য সূত্রপাতের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য দমকল দল ও পুলিশ একত্রে কাজ করছে।

অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সভা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে গুদামগুলোর নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করার নির্দেশ দেয়। গুদাম মালিকদেরকে অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম, অগ্নি সনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, পাটের মতো উচ্চ দাহ্য পণ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ অনুমোদন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুদামের মালিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করার জন্য বীমা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। তবে বীমা নীতির শর্তাবলী ও ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা স্থানীয় বাণিজ্যিক সমিতির মাধ্যমে সমন্বিতভাবে সাহায্য ও সমর্থন চাচ্ছেন।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে, কারণ গুদামটি পাটের প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র ছিল। পাটের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা স্থানীয় কৃষক ও পাট ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা বিবেচনা করছে।

অধিক তদন্তের ফলাফল ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে পুলিশ ও দমকল দল উভয়ই ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments