ইরানের প্রাক্তন শাসকের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানের বর্তমান বিক্ষোভে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে একটি জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছেন। এই আহ্বানটি গত শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হয়।
পাহলভি তার পোস্টে ট্রাম্পকে ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়াতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ বাড়াতে অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই আহ্বানটি তার দৃষ্টিতে দেশের স্বাধীনতার জন্য জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেননি যে তিনি কী ধরনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন, তবে তিনি জনগণকে স্বাধীনতার জন্য রাস্তায় নামতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জনসংখ্যার জোর বাড়াতে আহ্বান জানান। তার মতে, গত রাতে ইতিমধ্যে মানুষ এই আহ্বান অনুসরণ করে পদক্ষেপ নিয়েছে।
পাহলভি আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমান শাসনব্যবস্থার হুমকি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে কিছুটা দমিয়ে রেখেছে, তবে সময়ের গুরুত্বকে তুলে ধরে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে আবার মানুষ রাস্তায় নামবে বলে পূর্বাভাস দেন। তিনি ট্রাম্পকে এই সময়ে সহায়তা প্রদান করার জন্য অনুরোধ করেন।
ইরানে বিক্ষোভের পরিধি দ্রুত বাড়ছে; গত মাসে তেহরানে শুরু হওয়া প্রতিবাদগুলো এখন দেশের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শহরে নাগরিকদের অংশগ্রহণের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেহরানের রাজধানীতে এক রাতে ২০০েরও বেশি প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির তীব্রতা এবং বিক্ষোভের রক্তপাতের মাত্রা নির্দেশ করে।
বিক্ষোভের বিস্তার এবং মৃত্যুর সংখ্যা আন্তর্জাতিক নজর কাড়ে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের জন্য এই পরিস্থিতি একটি জটিল চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। ট্রাম্পের প্রশাসন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা ভবিষ্যতে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।
পাহলভির আহ্বানটি ইরানের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই প্রান্তে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও তিনি হস্তক্ষেপের নির্দিষ্ট রূপ উল্লেখ করেননি, তবু তার বার্তা ইরানের নাগরিকদের সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের সরকার এই ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে এবং দেশীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে বিক্ষোভের তীব্রতা এবং জনমতের পরিবর্তন সরকারকে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে বাধ্য করতে পারে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, যদি বিক্ষোভের তীব্রতা অব্যাহত থাকে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধি পায়, তবে ইরানের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের জন্য এই পরিস্থিতি একটি কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপে, রেজা পাহলভি ট্রাম্পকে ইরানের বিক্ষোভে হস্তক্ষেপের জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড় তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে, তা ইরানের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভরশীল হবে।



