শিবগঞ্জ উপজেলার কিরণগঞ্জ সীমান্তে শনিবার দুপুরে ৩০০ জন সীমান্ত বাসীর জন্য শীতকালীন কম্বল বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর ৫৯ নম্বর মহা নন্দা ব্যাটালিয়ন (বিজিবি‑৫৯) এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানটি কিরণগঞ্জের ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিজিবি‑৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সীমান্ত রক্ষায় গার্ডের ভূমিকা তুলে ধরে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন।
অধিনায়ক কিবরিয়া উল্লেখ করেন যে ২০২৫ সালে সীমান্তে বিএসএফের আক্রমণাত্মক কার্যকলাপের সময় স্থানীয় মানুষ গার্ডের সঙ্গে মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেই সময়ের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা আজকের এই কম্বল বিতরণে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে তিনি বলেন।
তিনি আরও জানান যে সীমান্তের শীতকালীন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় গার্ডের এই ধরনের মানবিক সহায়তা ভবিষ্যতে নিয়মিত চালিয়ে যাবে। গার্ডের এই প্রতিশ্রুতি সীমান্তের নিরাপত্তা ও স্থানীয় মানুষের মঙ্গলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা গার্ডের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানান যে ২০২৫ সালের সংঘর্ষের সময় গার্ডের সঙ্গে তাদের সংহতি স্মরণীয়। তারা উল্লেখ করেন যে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের সহায়তা তাদের জীবনের মান উন্নত করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিছু স্থানীয় নেতা ও সমাজকর্মীও গার্ডের এই মানবিক কাজের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত সহায়তার আহ্বান জানান। তারা জোর দিয়ে বলেন যে সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানবিক চাহিদা দুটোই একসঙ্গে পূরণ করা দরকার।
কম্বল বিতরণে গার্ডের কর্মীরা প্রত্যেক সুবিধাভোগীর নাম নথিভুক্ত করে যথাযথভাবে উপকরণ সরবরাহ করেন। বিতরণকৃত কম্বলগুলো স্থানীয় দরিদ্র পরিবার, কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়।
বিজিবি‑৫৯ ব্যাটালিয়নের অন্যান্য সদস্যরা এই কাজের জন্য প্রস্তুতকৃত লজিস্টিক্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করেন। তারা নিশ্চিত করেন যে বিতরণ প্রক্রিয়া সময়মতো ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অধিনায়ক কিবরিয়া ভবিষ্যতে সীমান্তের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো সহায়তার দিকেও গার্ডের সম্পৃক্ততা বাড়াবে বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে গার্ডের দায়িত্ব শুধুমাত্র সশস্ত্র রক্ষা নয়, বরং মানবিক দায়িত্বও পালন করা।
এই বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে গার্ডের সামাজিক দায়িত্বের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শীতের কঠিন সময়ে এ ধরনের সহায়তা সীমান্তের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজিবি কর্তৃক এই ধরনের মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হলে সীমান্তের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা দুটোই মজবুত হবে। গার্ডের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সীমান্তের সমন্বিত উন্নয়নের একটি ধাপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
সারসংক্ষেপে, চাপাইনবাবগঞ্জের কিরণগঞ্জ সীমান্তে গার্ডের এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের শীতকালীন চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গার্ড-জনতার ঐতিহাসিক সংহতির পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছে। গার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।



