ঢাকার সিআইআরডিএপি অডিটোরিয়ামে আজ সকাল ১০:৩০ টায় অনুষ্ঠিত “রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা” শীর্ষক নীতি সংলাপে সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজ (সিএজিএস)ের সভাপতি জিলুর রহমান উক্তি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই উত্থানের ঘটনাবলীর বর্ণনা এখন মুক্তিযুদ্ধের মতোই বাণিজ্যিক রূপে উপস্থাপিত হচ্ছে, যা গত ১৫‑১৬ বছর ধরে চলমান।
তিনি বলেন, এমন বাণিজ্যিকীকরণ কেবল তখনই টিকে থাকে যখন তা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে, অন্যথায় তা দ্রুত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়। এই মন্তব্যের পটভূমি ছিল সিএজিএসের আয়োজিত নীতি সংলাপ, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
জিলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, “Students Against Discrimination” আন্দোলন দুইটি মূল লক্ষ্য নিয়ে গঠিত ছিল: বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সরকারের পতনের দাবি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মূল লক্ষ্যগুলোই আন্দোলনের ভিত্তি, তবে পরবর্তীতে গঠিত সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনের কাজের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত বর্ণনাগুলো মূল আলোচনার অংশ ছিল না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “যে কেউ লঙ্কা যায়, সে রাভণ হয়ে ওঠে”। এই রূপকটি দেশের রাজনৈতিক নেতাদের ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের একই মুখে ক্ষমতা গ্রহণের প্রবণতা নির্দেশ করে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতারা বা নাগরিক সমাজের সদস্যরা যখন ক্ষমতার চেয়ারে বসেন, তাদের মুখের রূপ অপরিবর্তিত থাকে। এই ধারাবাহিকতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে।
প্রতিবেদনটি প্রথাম অলোর ও দ্য ডেইলি স্টার অফিসে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, যখন এই দুইটি সংবাদমাধ্যমের অফিসে আগুন লেগে যায়, তখন সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কোথায় ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রধান উপদেষ্টা ও তার উপদেষ্টারা সম্পাদকদের ফোন করে দুঃখ প্রকাশের কথা জানিয়েছেন, তবে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষতি ইতিমধ্যে ঘটেই গেছে, তাই দুঃখ প্রকাশের কোনো বাস্তবিক প্রভাব নেই। এই মন্তব্যগুলো সরকারী প্রতিক্রিয়ার যথাযথতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মোব সংস্কৃতির বৈধতা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে একটি উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা “চাপের দল”কে অতীতের দমনমূলক শাসনের পর অধিকার ব্যবহার হিসেবে সমর্থন করেছেন। তিনি সতর্ক করেন, এই ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষে তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের এই ধরণের অনুমোদন ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতা ও সহিংসতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলবে। এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় সিএজিএসের অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রের নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।



