ফিল্ম নির্মাতা গীতা মোহনদাস শুক্রবার ইনস্টাগ্রাম থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করে টক্সিক নামের নতুন গ্যাংস্টার থ্রিলার টিজার নিয়ে সামাজিক মিডিয়ায় সৃষ্ট তীব্র বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত দেন। টিজারটি প্রধান চরিত্রে ইয়াশকে নতুন রূপে উপস্থাপন করে এবং একটি গাড়ির ভেতরে যৌন দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা উস্কে দেয়।
টিজারটি প্রকাশের পরপরই অনলাইন ব্যবহারকারীরা দৃশ্যটি নারীর শোষণ হিসেবে দেখার অভিযোগ তুলেন এবং এর গল্পের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নবিদ্ধ করেন। কিছু মন্তব্যকারী এটিকে সম্মতি ও যৌন নীতি সংক্রান্ত বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন, অন্যরা দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা ও নান্দনিকতা নিয়ে সমালোচনা করেন।
গীতা মোহনদাসের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কোনো সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, ভিডিওটির ওপর টেক্সট ওভারলে ছিল “চিলিং হোয়াইল পিপল ফিগার আউট ফিমেল প্লেজার, কনসেন্ট, উইমেন প্লেয়িং সিস্টেমস, ইত্যাদি”। এই বাক্যগুলোকে অনেকেই টিজার ট্রোলিং ও সমালোচনার প্রতি পরোক্ষ উত্তর হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পোস্টে টিজার বা চলচ্চিত্রের নাম উল্লেখ না করা সত্ত্বেও, তার প্রকাশিত বার্তা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিষয়গুলোকে স্পর্শ করেছে।
অনলাইন ফোরাম রেডডিটেও টিজারটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক গড়ে ওঠে। ব্যবহারকারীরা দৃশ্যের উদ্দেশ্য, বাস্তবতা এবং চলচ্চিত্রের সামগ্রিক গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক মন্তব্যে বলা হয়, সমালোচনার মূল কারণ দৃশ্যের অপ্রয়োজনীয়তা এবং তার অপ্রাসঙ্গিক ব্যবহার, যা দর্শকের কাছে তিক্ত অনুভূতি জাগায়।
অন্য একটি মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সমালোচনাকারীরা সম্মতি ও যৌন আনন্দের শব্দগুলো ব্যবহার করে নারীর শোষণকে ন্যায্যতা দিচ্ছেন, যদিও বাস্তবে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মন্তব্যকারী রূপকভাবে বলছেন, এমন একটি সমাজে যেখানে যৌন অপরাধের সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান, এই ধরনের দৃশ্যগুলোকে নারীর অধিকারবোধের নামে ব্যবহার করা অনুচিত।
এক তৃতীয় মন্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয়, টিজারের প্রসঙ্গে নারীর আনন্দের কী ভূমিকা আছে। মন্তব্যকারী উল্লেখ করেন, টিজারের চরিত্রটি একটি বার ড্যান্সার হিসেবে উপস্থাপিত, যার সঙ্গে ইয়াশের সংযোগ দৃশ্যের যৌন দিককে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, দর্শকরা দৃশ্যের বর্ণনা ও চরিত্রের পারস্পরিক সম্পর্ককে যথাযথভাবে যুক্ত করতে পারছেন না।
এই বিতর্কের পটভূমিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চলচ্চিত্রে নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। টিজারের মতো দৃশ্যগুলোকে কখনও কখনও শিল্পের স্বাধীনতা হিসেবে দেখা হয়, আবার কখনও সামাজিক দায়িত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা হয়। গীতা মোহনদাসের পোস্টটি এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে একটি সূক্ষ্ম মন্তব্য হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
সামাজিক মিডিয়ায় টিজার নিয়ে চলমান বিতর্কের ফলে চলচ্চিত্রের প্রচার কৌশল ও দর্শকের প্রত্যাশা পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। গীতা মোহনদাসের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওটি যদিও সংক্ষিপ্ত, তবু সমালোচনার মূল বিষয়গুলো—নারীর আনন্দ, সম্মতি এবং সামাজিক কাঠামো—কে তুলে ধরেছে, যা দর্শকদের মধ্যে আরও গভীর আলোচনা উস্কে দিতে পারে।
টক্সিকের টিজার এবং গীতা মোহনদাসের প্রতিক্রিয়া দুটোই এখন চলচ্চিত্রের প্রকাশের আগে থেকেই জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই পরিস্থিতি দেখায় যে, আধুনিক চলচ্চিত্রের প্রচার কেবল কাহিনী নয়, বরং সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গড়ে ওঠে। ভবিষ্যতে টিজারটি কীভাবে গ্রহণ করা হবে এবং গীতা মোহনদাসের মন্তব্যের প্রভাব কতটুকু থাকবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



