19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী তাকািচি পার্লামেন্ট ভেঙে আগাম নির্বাচন পরিকল্পনা

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী তাকািচি পার্লামেন্ট ভেঙে আগাম নির্বাচন পরিকল্পনা

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানা তাকািচি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিম্নকক্ষ ভেঙে আগাম নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছেন। সরকারে তার জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে উচ্চ, যা তাকে দ্রুত ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দৃঢ় করার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাকািচি অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশকে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সাম্প্রতিক জরিপে তার মন্ত্রিসভা প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।

তবে নিম্নকক্ষের তার জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সীমিত, ফলে উচ্চাভিলাষী নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি তাকে পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন ভোটের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলার দিকে ধাবিত করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া পার্লামেন্ট অধিবেশনের প্রথম দিনেই তাকািচি নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। যদি তা ঘটে, তবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশ উঁচু বলে অনুমান করা হচ্ছে।

প্রশাসনের অভ্যন্তরে একটি মত রয়েছে যে, সমর্থন হারানোর আগে পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন ভোটের মাধ্যমে সরকারকে পুনরায় শক্তিশালী করা উচিত। যদিও নির্দিষ্ট সূত্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই ধারণা সরকারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাকার দলের লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি (জিপি) নভেম্বর মাসে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল, যখন তিনজন সংসদ সদস্য এলডিপিতে যোগ দেন। তবে উচ্চকক্ষে এখনও জোটের দৃঢ়তা নিশ্চিত নয়, যা নীতি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তাকািচি রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধি, গোয়েন্দা সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং চীনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

গত নভেম্বর মাসে তাকািচি উল্লেখ করেন, চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তবে জাপানও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করবে। এই মন্তব্যের পর থেকে টোকিও এবং বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

তাকািচির এই আগাম নির্বাচন পরিকল্পনা দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক গতিবিধি ত্বরান্বিত করতে পারে। জোটের সীমিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উচ্চকক্ষে অনিশ্চয়তা বিবেচনা করে, নতুন ভোটের মাধ্যমে তিনি তার নীতি এজেন্ডা সুনিশ্চিত করতে চাইছেন।

বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, পার্লামেন্ট ভেঙে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন, সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নতুন ভোটের প্রস্তুতি এবং ভোটার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

তবে তাকািচি ও তার দল এই ঝুঁকি স্বীকার করে, তবে সরকারী ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন ভোটের মাধ্যমে তিনি তার নীতি লক্ষ্যগুলো—যেমন রক্ষা করা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানো—সফলভাবে অগ্রসর করতে চান।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যদি পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়, তবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ, নির্বাচনী প্রচার এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সরকারী সংস্থা দ্রুত কাজ করবে। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোকে ত্বরান্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

সংক্ষেপে, তাকািচি সরকারের বর্তমান জনপ্রিয়তা এবং জোটের সীমিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিবেচনা করে, পার্লামেন্ট ভেঙে আগাম নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি সরকারকে পুনর্গঠন করে, উচ্চাভিলাষী নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন অর্জন করতে চান। ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দেশীয় নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর কীভাবে পড়বে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments