27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বানেও তেল কোম্পানিরা সতর্ক

ট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বানেও তেল কোম্পানিরা সতর্ক

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০ হাজার কোটি) বিনিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়। তবুও তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশকে বিনিয়োগের উপযোগী না বলে উল্লেখ করে, কোনো বড় অঙ্গীকার করেনি।

বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি ছিল, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এনে জ্বালানির দাম কমানো সম্ভব হবে। তিনি জানালেন, যদি তেল উৎপাদন বৃদ্ধি পায় তবে আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য জ্বালানির দাম হ্রাস পাবে এবং দেশ সরাসরি লাভবান হবে। এই বক্তব্যের পরেও তেল শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন।

এক্সনের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস উল্লেখ করেন, অতীতে ভেনেজুয়েলায় তাদের সম্পদ দুবার জব্দ করা হয়েছে, ফলে তৃতীয়বার বিনিয়োগের আগে মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার না করা পর্যন্ত ঝুঁকি খুবই বেশি। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা তেল প্রকল্পে বড় পরিমাণে মূলধন ঢালার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হয়নি।

ট্রাম্পের প্রস্তাবের আগে ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, এবং ট্রাম্পের ভাষণে বলা হয় ভেনেজুয়েলার তেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই ঘোষণার পরেও তেল কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সম্পত্তি সুরক্ষার নিশ্চয়তা না পেয়ে দ্বিধা প্রকাশ করে।

ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদের একটিতে অধিকারী, তবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তেল উত্তোলনকে জটিল করে তুলেছে। তেল কোম্পানিগুলো জোর দেন, বিনিয়োগের আগে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল আইনি কাঠামো, সম্পত্তি সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার স্পষ্টতা দরকার।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শেভরনই ভেনেজুয়েলার তেল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্পেনের রেপসোল, ইতালির এনি এবং কয়েকটি অন্যান্য বিদেশি কোম্পানি এখনও সেখানে সক্রিয়, তবে তাদের কার্যক্রম সীমিত। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে এই কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, তবে তারা ট্রাম্পের প্রস্তাবের সঙ্গে কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেননি।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ না আসে, তবে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতি পাবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্পের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদে প্রবেশের সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নীতি পরিবর্তন প্রয়োজন।

ট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান এবং তেল কোম্পানিগুলোর সতর্কতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তেল শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা তেল প্রকল্পে বড় পরিমাণে মূলধন প্রবেশের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সম্পত্তি সুরক্ষা এবং কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে, তেল কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে পদক্ষেপ নেবে না, যদিও তেল সম্পদের আকর্ষণীয়তা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, তবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে তার অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের কারণে এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরে থাকবে। তেল কোম্পানিগুলোর সতর্কতা এবং ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা দুটোই ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের পথে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments