নতুন বছরের আগের রাতে সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনের ক্র্যান্স-মন্টানা শহরে একটি জনপ্রিয় বার, লে কনস্টেলেশন-এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়, যার ফলে ৪০ জনের মৃত্যু এবং ১১৬ জনের আঘাত হয়। ঘটনাস্থলটি পর্যটক ও স্থানীয় যুবকদের সমাবেশের স্থান, এবং অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় জরুরি সেবা দলকে কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য করে।
সুইজারল্যান্ডের শাসনব্যবস্থা কেন্দ্রীয় নয়, বরং স্থানীয় স্তরে ব্যাপকভাবে বিকেন্দ্রীকৃত; গ্রাম ও শহরের প্রশাসন স্থানীয় নির্বাচিত কর্মকর্তাদের হাতে থাকে, যাদের কাজের মধ্যে ব্যবসা লাইসেন্স প্রদান এবং নিরাপত্তা পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যবস্থা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রশংসিত হলেও, বাস্তবে একই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি থাকে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় লে কনস্টেলেশন-এ প্রায় ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ বয়সের। অগ্নি শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং অগ্নি নির্বাপক দলকে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে পুরো ভবনটি নিয়ন্ত্রণে আনতে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিকিৎসা দল দ্রুত আহতদের ত্রাণ করে, তবে গুরুতর আঘাতের শিকারদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়।
মৃত্যুর সংখ্যা ৪০, যার বেশিরভাগই ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের তরুণ। আহতের সংখ্যা ১১৬, যার মধ্যে ৭০ জনের আঘাত গুরুতর, এবং তারা এখন স্থানীয় হাসপাতাল ও বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। পরিবারগুলো শোকাহত, এবং শহরের বাসিন্দারা শোকের ছায়ায় দুঃখ প্রকাশ করছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন, তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জামের ত্রুটি এবং অপ্রতুল পরিদর্শনের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও অগ্নি বিভাগ একত্রে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
ক্র্যান্স-মন্টানা শহরের মেয়র নিকোলাস ফেরো, ঘটনায় পরিদর্শনের অভাব প্রকাশ করে জানান যে ২০১৯ সাল থেকে লে কনস্টেলেশন-এ কোনো নিরাপত্তা পরিদর্শন করা হয়নি। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরই তিনি এই তথ্য জানেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়ে তদন্তের আদেশ দেন।
ভ্যালাইস ক্যান্টনে বার ও রেস্তোরাঁর নিরাপত্তা পরিদর্শন প্রতি বছর করা উচিত, তবে ২০২৫ সালে ১২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪০টি প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। মেয়র ফেরো এই সংখ্যার পার্থক্যকে স্বীকার করে বলেন, পর্যাপ্ত পরিদর্শক কর্মী না থাকায় পুরো তালিকাটি সময়মতো পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি।
ফেরোর এই ব্যাখ্যা প্রতিবেশী শহর জারম্যাটের মেয়র রোমি বিনারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যিনি উল্লেখ করেন যে ভ্যালাইসের অনেক গোষ্ঠী পর্যাপ্ত সম্পদ ছাড়া এত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। যদিও জারম্যাট ও ক্র্যান্স-মন্টানা দুটোই দেশের অন্যতম ধনী শীতকালীন পর্যটন গন্তব্য, তবু এই সমস্যার সমাধানে পর্যাপ্ত বাজেট ও কর্মী নিয়োগের অভাব রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর জনমত দ্রুত গড়ে ওঠে, এবং স্বিটজারল্যান্ডের বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। নাগরিকরা দাবি করছেন যে স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঠিক প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই ঘটনার ফলে স্থানীয় শাসনব্যবস্থার পুনর্গঠন, পরিদর্শক সংখ্যা বৃদ্ধি, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন আইনি কাঠামো গড়ে তোলার চাপ বাড়বে। কিছু দল প্রস্তাব করছে যে নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিলের ব্যবহার এবং স্বাধীন তত্ত্বাবধান সংস্থা গঠন করা উচিত।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে স্বিটজারল্যান্ডের ফেডারেল ও ক্যান্টনীয় সরকার অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করবে, এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য জরুরি সভা আহ্বান করা হতে পারে। একই সঙ্গে, স্থানীয় প্রশাসনকে অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্মূল্যায়ন এবং তদারকি ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।



