গাজীপুরের তলিয়া গ্রামে দুই তলা, ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতালের দরজা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। ২০২০ সালে প্রায় ২০ কোটি টাকার খরচে নির্মিত এই ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে রাখা হয়েছে, আর পার্শ্বে বেড়ে ওঠা গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের মাঝে জানালাগুলো কিছুটা খোলা হলেও কোনো কর্মী দেখা যায় না। একই সময়ে, গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলা ও আশেপাশের চারটি গ্রামবাসী ২০২১ সাল থেকে এই হাসপাতাল থেকে সেবা পাওয়ার আশা করছিল, তবে এখনো কোনো চিকিৎসা সেবা চালু হয়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, দেশের ১৮টি জেলায় মোট ৮০টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে; এদের মধ্যে ১৭টি হাসপাতাল, যার মধ্যে চারটি শিশু হাসপাতাল, ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১২টি বিদ্যমান হাসপাতালের সম্প্রসারণ এবং বাকি গুলো স্বাস্থ্যকর্মীর আবাসিক ইউনিট। কিছু কেন্দ্রের নির্মাণ ২০২৪ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে, অন্যগুলো এক দশকেরও বেশি পুরনো। তবে অধিকাংশই কর্মী, সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে ব্যবহারযোগ্য নয়।
বহু বছর আগে নির্মিত এই সুবিধাগুলোতে চিকিৎসা সেবা না চলার প্রধান কারণ হল মানবসম্পদ ও মৌলিক সরঞ্জামের ঘাটতি, পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ভবন ডাক্তার ও নার্সের জন্য আবাসিক ঘর হিসেবে পরিকল্পিত হলেও, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো সীমিত মাত্রায় কাজ করার ফলে এই আবাসিক ইউনিটগুলোও ব্যবহার করা হয় না। ফলে, নির্মাণে ব্যয়িত অর্থ ও জনসাধারণের প্রত্যাশা দু’ই নষ্ট হচ্ছে।
তলিয়া হাসপাতালে জমি দানকারী মুক্তার হোসেনের পরিবার দুই একর জমি দান করেছিল, কিন্তু হাসপাতাল চালু না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জমি দান করার কোনো উদ্দেশ্য বাকি নেই; হাসপাতাল তৈরি হয়েছে, তবে সেবা চালু হয়নি, ফলে গ্রামবাসীরা কোনো চিকিৎসা পায় না।” তার এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন।
গাজীপুরের পাশাপাশি সাভারের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ হেলথ ম্যানেজমেন্টের মতো অন্যান্য সুবিধাও ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোও একই সমস্যার সম্মুখীন, যেখানে নির্মাণ সম্পন্ন হলেও কর্মী ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে কার্যক্রম শুরু হয়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি থেকে স্পষ্ট যে, ২০২৪ পর্যন্ত ৪১টি কেন্দ্র সম্পন্ন হয়েছে, আর বাকি গুলো পুরনো পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত। তবে সবগুলোই আজও সেবা প্রদান করতে অক্ষম, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের দুর্বলতা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘাটতি নির্দেশ করে।
এই অবস্থা রোগীদের বাড়ির নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর জন্য জরুরি চ্যালেঞ্জ হল, মানবসম্পদ, সরঞ্জাম ও ঔষধের যথাযথ ব্যবস্থা করে এই বন্ধ সুবিধাগুলোকে কার্যকর করা, যাতে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যায়।
অবশেষে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ব্যবহারযোগ্যতা বাড়াতে কী ধরনের নীতি ও তদারকি প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। আপনার মতামত কী? আপনার এলাকার কোনো বন্ধ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আছে কি? মন্তব্যে জানান।



