যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিবেদক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা শহরে ফিরে এসে দেশের প্রতি তার আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি উপস্থিতি নিশ্চিত করে বলেন, “বাংলাদেশে ফিরে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত” এবং উল্লেখ করেন যে আন্তর্জাতিক আইনের পরিবর্তে নৈতিক নীতিগুলোই তার কাজের ভিত্তি।
ক্রিস্টেনসেনের এই মন্তব্যের পটভূমিতে সাম্প্রতিক জার্মানিতে ঘটিত তীব্র তুষারঝড়ের ফলে জনজীবনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে কঠিন পরিস্থিতিতেও নৈতিক দায়িত্ব পালন করা জরুরি। তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি ও নৈতিক দায়িত্বের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের সূত্র অনুযায়ী, ক্রিস্টেনসেনের বাংলাদেশে ফিরে আসা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি গত কয়েক মাসে ইউরোপে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে যুক্ত ছিলেন এবং এখন আবার দক্ষিণ এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে তার দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করছেন। তার ফিরে আসা সময়ে, দু’দেশের বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ক্রিস্টেনসেনের উপস্থিতি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে। বিশেষত, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং নিরাপত্তা সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে দু’দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, তার নৈতিকতার ওপর জোর দেওয়া মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক আইনের জটিলতা থেকে সরাসরি মানবিক মূল্যবোধের দিকে দৃষ্টিপাতের ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ক্রিস্টেনসেনের ফিরে আসার স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে যে, দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে সমন্বয় সাধন করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা深化 করার জন্য প্রস্তুত”।
এই সময়ে, দু’দেশের মধ্যে চলমান কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষত, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা, এবং স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যে উল্লেখিত নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
অধিকন্তু, ক্রিস্টেনসেনের ফিরে আসা সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও শ্রম নীতি সংক্রান্ত আলোচনাও তীব্র হয়েছে। তার নৈতিকতার ওপর জোর দেওয়া মন্তব্যটি এই বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বাংলাদেশে ফিরে আসা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার প্রকাশিত আনন্দ এবং নৈতিকতার ওপর জোর দেওয়া মন্তব্য দু’দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। আগামী সপ্তাহে ঢাকা ও ওয়াশিংটন দু’শহরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়গুলো আরও বিশদে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক চুক্তি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যৌথ উদ্যোগের রূপরেখা নির্ধারণ। ক্রিস্টেনসেনের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্য এবং তার ফিরে আসার সঙ্গে যুক্ত কূটনৈতিক কার্যক্রমের এই সংমিশ্রণ, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।



