যশোর মানিরামপুর উপজেলা, কাজিয়ারা গ্রামে রাত ৯টায় মাদকদ্রব্য দমন অভিযান চলাকালীন হ্যান্ডকাফড চারজন আটককে স্থানীয় গোষ্ঠী ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের মতে, নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের সাব-ইনস্পেক্টর রেজাউল করিমের নেতৃত্বে দলটি মাদক বিক্রি ও সেবার তথ্য পেয়ে কাজিয়ারা গ্রামে পৌঁছায়।
অভিযানের সময়, পুলিশ দলটি যেসব ব্যক্তিকে ইয়াবা সেবন করতে ধরা পড়ে, তাদেরকে গ্রেফতার করে হ্যান্ডকাফড করে। আটক ব্যক্তিরা হলেন কাজিয়ারা গ্রামের আজিজুল ইসলাম, কাজিয়ারা গ্রামের ইমান, খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের মিলন এবং আরেকজন যাঁর পরিচয় তৎকালীন নিশ্চিত করা যায়নি।
গ্রেপ্তারকৃতদেরকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়, কিছু স্থানীয় বাসিন্দা হিংস্রভাবে পুলিশকে আক্রমণ করে। গোষ্ঠীটি হস্তক্ষেপের সময় হ্যান্ডকাফড আটক চারজনকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
অভিযানের দায়িত্বে থাকা মানিরামপুর থানা অফিসার রজিয়ুল্লাহ খান জানান, “পুলিশ যখন আটককে স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার পথে ছিল, তখন কিছু লোক হিংসাত্মক হয়ে ওঠে এবং অফিসারদের ওপর আক্রমণ চালায়। গুলিবাজি ও বিশৃঙ্খলার মাঝখানে গোষ্ঠীটি আটক চারজনকে ছিনিয়ে নেয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ কর্মীরা সংখ্যাগতভাবে কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।
অভিযানের পর, মানিরামপুর থানা অফিসার-ইন-চার্জ রজিয়ুল্লাহ খান, মানিরামপুর সার্কেলের সহকারী সুপারইন্টেনডেন্ট ইমদাদুল হক এবং অন্যান্য জেলাভিত্তিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাতের শেষের দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন।
পুলিশের মতে, গোষ্ঠীটি হিংসাত্মকভাবে গতি করে এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে। আটক চারজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং গোষ্ঠীর সদস্যদের সনাক্ত করার জন্য তদন্ত ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে, সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনি দায়িত্বের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অভিযানের সময় গৃহীত প্রমাণ, যেমন ভিডিও রেকর্ডিং ও সাক্ষ্য, তদন্তের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক চারজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্যের পরিমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা বিশ্লেষণের জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।
অভিযানের পর, মানিরামপুর থানা অফিসার-ইন-চার্জ রজিয়ুল্লাহ খান ও সহকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে, মাদকদ্রব্যের অবৈধ সেবন ও বিক্রয় বন্ধ করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর, মানিরামপুর জেলায় মাদকদ্রব্য দমন অভিযানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত পেট্রোল ও মানবসম্পদ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মাদকদ্রব্যের সরবরাহ শৃঙ্খল ভাঙতে এবং সমাজে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
অবশেষে, পুলিশ জানিয়েছে, গোষ্ঠীকে গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ দফতর গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধের জন্য আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



