22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসিলেটের ছয়টি আসনে কোটিপতি প্রার্থীর তালিকা ও সম্পদের তুলনা

সিলেটের ছয়টি আসনে কোটিপতি প্রার্থীর তালিকা ও সম্পদের তুলনা

সিলেটের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে উভয় প্রধান দল—বিএনপি ও জামায়াত‑ই‑ইসলাম—এর প্রার্থীদের সম্পদ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। জমা দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, উভয় দলে মোট দশজন প্রার্থী কোটিপতি, যার মধ্যে ছয়জন বিএনপি ও চারজন জামায়াতের। এই তথ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটারদের জন্য প্রার্থীর আর্থিক পটভূমি জানার সুযোগ দিচ্ছে।

বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালীদের তালিকায় সিলেট‑১ আসনের খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, সিলেট‑২ আসনের তাহসিনা রুশদী, সিলেট‑৩ আসনের এম এ মালিক এবং সিলেট‑৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত। এ চারজনই দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার পদে আছেন এবং তাদের সম্পদে অস্থাবর ও স্থাবর উভয় সম্পদ অন্তর্ভুক্ত। সিলেট‑৬ আসনে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী ও জেলা সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে; দুইজনের মধ্যে একজনই চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন। সিলেট‑৫ আসনে জোটের অংশ হিসেবে জামিয়াতে উলমায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে প্রার্থী করা হয়েছে, ফলে ওই আসনে কোনো বিএনপি প্রার্থী নেই।

জামায়াতের প্রার্থীরা সকল ছয়টি আসনে উপস্থিত। সিলেট‑১ আসনে জেলা আমির হাবিবুর রহমান, সিলেট‑২ আসনে জেলা নায়েবের আমির মো. আবদুল হান্নান, সিলেট‑৩ আসনে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ, সিলেট‑৪ আসনে জেলা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন, সিলেট‑৫ আসনে জেলা নায়েবের আমির মো. আনওয়ার হোসাইন খান এবং সিলেট‑৬ আসনে ঢাকা মহানগর জামায়াত উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

প্রার্থীদের পেশাগত পটভূমি দেখলে দেখা যায়, মোট তেরজনের মধ্যে একজন—এম এ মালিক—বর্তমানে কোনো পেশা নেই, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি নয়জন ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করেন। অবশিষ্ট তিনজনের মধ্যে তাহসিনা রুশদী অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, উবায়দুল্লাহ ফারুক শিক্ষক এবং এমরান আহমদ চৌধুরী আইনজীবী। এভাবে আর্থিক দিক থেকে কোটিপতি প্রার্থীরা মূলত ব্যবসায়িক পটভূমি থেকে সম্পদ অর্জন করেছেন।

দুই দলই দাবি করে যে প্রার্থীর আর্থিক অবস্থান ভোটারদের সেবা প্রদানকে প্রভাবিত করবে না এবং নির্বাচনের মূল মানদণ্ড হবে নীতি ও কর্মদক্ষতা। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, কোটিপতি প্রার্থীরা প্রচারণা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারেন, যা ভোটারদের পছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সিলেটের মতো অঞ্চলে যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্পের চাহিদা বেশি, সম্পদশালী প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনী কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, এই তালিকা ভোটারদের জন্য প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং সম্ভবত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে তুলনা সহজ করবে। এছাড়া, কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পার্টিগুলোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও দান-নিয়মের প্রয়োগে নজরদারি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে, উভয় দলই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য আলোচনায় রয়েছে, যা ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বিকল্প উপস্থাপন করবে।

সিলেটের ছয়টি আসনে কোটিপতি প্রার্থীদের উপস্থিতি, তাদের সম্পদ ও পেশাগত পটভূমি, এবং উভয় দলের নির্বাচনী কৌশল একসাথে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দৃশ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ভোটাররা প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা ও নীতি-নির্ধারণের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments