28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনচায়ানাটের শুদ্ধসংগীত উৎসব ঢাকা ধানমন্ডিতে দুই দিনব্যাপী উদ্বোধন

চায়ানাটের শুদ্ধসংগীত উৎসব ঢাকা ধানমন্ডিতে দুই দিনব্যাপী উদ্বোধন

ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত চায়ানাট সংস্কৃতি‑ভবনে ৯ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া শুদ্ধসংগীত উৎসব, দীর্ঘ বিরতির পর সংগঠনকে আবার সাংস্কৃতিক মঞ্চে ফিরিয়ে এনেছে। এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি কালজয়ী গায়ক‑সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে সম্মান জানিয়ে আয়োজন করা হয়েছে।

প্রথম দিনটি জাতীয় সঙ্গীতের সুরে সূচনা পায় এবং বিকেল ৩:৩০ থেকে রাত ৯:৩০ পর্যন্ত চলা এক ধারাবাহিক সেশন দিয়ে শেষ হয়। দর্শকরা ঐতিহ্যবাহী রাগ-সুরের পাশাপাশি আধুনিক রচনাও উপভোগ করতে পারেন।

দ্বিতীয় দিনটি শনিবারে সকাল ৮:৩০ থেকে দুপুর ১২:৩০ পর্যন্ত একটি সকালের সেশন এবং পরে বিকেল ২টা থেকে রাত ৯:৩০ পর্যন্ত সমাপনী সেশনে ভাগ করা হয়েছে। উভয় সেশনে বিভিন্ন শাখার শিল্পী ও ব্যান্ড পারফর্ম করে, যা দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় সঙ্গীত অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

উদ্বোধনী ভাষণে চায়ানাটের সভাপতি সারওয়ার আলি দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশকে স্বচ্ছ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ স্বদেশ গড়ে তোলা বর্তমান সময়ের প্রধান লক্ষ্য, যেখানে কোনো বাধা ছাড়াই শিল্পের চর্চা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

গত বছর ইনকিলাব মঞ্চে ঘটিত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর চায়ানাটের কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দেয়। শ্রীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কিছু অশান্তি সৃষ্টি হয়, যার ফলে চায়ানাট ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। যদিও কিছু গোষ্ঠী হাদির সমর্থকদের দায়ী করে, তবে তদন্তে দেখা যায় যে এই ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে স্বার্থপর অশান্তিকারীরা সুযোগ নিয়ে কাজ করেছে।

এই অশান্তির পর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে চায়ানাটের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১ জানুয়ারি থেকে দাপ্তরিক কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং ৩ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত শিক্ষার কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।

শুধু শিক্ষার পুনরায় সূচনা নয়, শুদ্ধসংগীত উৎসবের মাধ্যমে চায়ানাটের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠনটি আবার বৃহৎ মঞ্চে ফিরে এসেছে। দুই দিনের এই অনুষ্ঠানটি সংগীতপ্রেমী ও শিল্পজগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উৎসবের সময় দর্শক ও শিল্পী উভয়ই নিরাপদ পরিবেশে পারফরম্যান্স উপভোগ করতে পেরেছেন, যা সংগঠনকে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ ও ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগায়। চায়ানাটের এই উদ্যোগটি দেশের সঙ্গীত সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।

উদযাপন শেষে সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত প্রোগ্রাম ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যাতে তরুণ শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা সঠিক প্রশিক্ষণ ও মঞ্চের সুযোগ পায়। এভাবে চায়ানাটের শুদ্ধসংগীত উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক পুনরুত্থানের সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments