ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড নেমার ডি সিলভা সান্তোস, ২২ ডিসেম্বর বাম হাঁটুর আর্থ্রোস্কোপিক শল্যচিকিৎসা সম্পন্ন করার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী নেমার ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে স্থান নিশ্চিত করার জন্য শারীরিক প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করছেন। তার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ব্রাজিলীয় সিরি এ-র শুরুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শল্যচিকিৎসা ব্রাজিলের জাতীয় দলীয় চিকিৎসক ড. রোড্রিগো লাসমার পরিচালনা করেন। বাম হাঁটুর মেনিস্কাসে সমস্যার সমাধানের জন্য আর্থ্রোস্কোপি করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয়। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় শল্যচিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নেমার শল্যচিকিৎসা আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি শল্যচিকিৎসা দেরি করে শেষের কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। এই সময়ে তিনি সান্তোসকে অবনমনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শেষ চারটি ম্যাচে তিনি পাঁচটি গোলের মাধ্যমে দলকে জয়ী করতে সহায়তা করেন।
শল্যচিকিৎসার আগে নেমার যে পাঁচটি গোল করেন, তা তার আক্রমণাত্মক দক্ষতার প্রমাণ। এই গোলগুলো সান্তোসের লিগ টেবিলে অবস্থান রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার পারফরম্যান্স দলকে শেষ মুহূর্তে রিলিভার হিসেবে কাজ করতে সক্ষম করে।
নেমারের বাবা ও এজেন্ট, নেমার দে সিলভা সান্তোস সিনিয়র, প্রকাশ করেছেন যে সাম্প্রতিক আঘাতের পর নেমার অবসর নেওয়ার কথা ভাবছিলেন, তবে এখন তিনি বিশ্বকাপের দিকে মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছেন। একই সপ্তাহে নেমার সান্তোসের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে, যা বছরের শেষ পর্যন্ত তার উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
পুনর্বাসন পর্যায়ে নেমার গYMএ নির্দিষ্ট ব্যায়াম করছেন, যা বাম হাঁটুর পেশী শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। সান্তোসের প্রশিক্ষণ মাঠে তিনি নিয়মিত কাজ করছেন, যাতে শারীরিক ক্ষমতা দ্রুত ফিরে আসে। এই ব্যায়ামগুলো ESPN-এর তথ্য অনুযায়ী, তার পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন নেমার ২০২৬ সালের ব্রাজিলীয় সিরি এ-র শুরুর আগে মাঠে ফিরে আসতে পারবেন। এই সময়সীমা তার শারীরিক প্রস্তুতি এবং দলের কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শল্যচিকিৎসার পর দ্রুত পুনরায় মাঠে ফিরে আসা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
নেমার এখন পর্যন্ত ১২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন, তবে অক্টোবর ২০২৩-এ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তার ACL এবং মেনিস্কাসে আঘাতের পর থেকে তিনি জাতীয় দলে ফিরে আসেননি। এই আঘাত তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য থামিয়ে রাখে।
ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ স্কোরার নেমার, ৭৯ গোলের মাধ্যমে রেকর্ড বজায় রেখেছেন এবং appearances-এ ক্যাফুর পরে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। তার অভিজ্ঞতা এবং গোল করার ক্ষমতা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নেমার এখন পুনর্বাসন পর্যায়ে থাকলেও, তার লক্ষ্য স্পষ্ট: শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিরে আসা। সান্তোসের সঙ্গে নবায়িত চুক্তি এবং শল্যচিকিৎসার সফল ফলাফল তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে তার পারফরম্যান্স ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রাকে নতুন দিক দেবে।



