ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, যা নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে গঠিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। ৯ জানুয়ারি ক্যারাকাসে সরকারী সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনকে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে একটি অনুসন্ধানমূলক প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ক্যারাকাসে সফর সম্পন্ন করেছেন এবং শীঘ্রই ভেনেজুয়েলার একটি প্রতিনিধি দলও ওয়াশিংটন ভ্রমণ করবে। দু’পক্ষের এই পারস্পরিক ভিজিট কূটনৈতিক সংলাপের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও এখনও কোন চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক অভিযানের পর, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া হয়। রদ্রিগেজের শাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট শর্ত দেন যে রদ্রিগেজ যতক্ষণ তেলের নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের সহায়তা করবেন, ততক্ষণ তার শাসন বজায় থাকবে।
ট্রাম্পের শর্তের ভিত্তিতে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল নীতি এখন ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারের পুনর্গঠনের দিকে কেন্দ্রীভূত। তিনি উল্লেখ করেন যে এই তেল উৎপাদনের পুনর্গঠন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য অপরিহার্য এবং কোন বিদেশি কোম্পানি সেখানে কাজ করবে তা ওয়াশিংটনই নির্ধারণ করবে।
মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভেনেজুয়েলা নিয়ে তিন ধাপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন: প্রথমে দেশের অভ্যন্তরে স্থিতিশীলতা আনা, দ্বিতীয় ধাপে পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং শেষ ধাপে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নিশ্চিত করা। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেল সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কূটনৈতিক আলোচনার মূল অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হবে।
তেল সংক্রান্ত কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর—শেভরন, এক্সনমোবিল এবং কনোকোফিলিপস—নির্বাহীদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্পের মতে, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ সম্পূর্ণভাবে আমেরিকান তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং কোন কোম্পানি সেখানে কাজ করবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব হবে না।
একই সময়ে, ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত ‘ওলিনা’ নামের পঞ্চম তেলবাহী জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের নৌবাহিনী ও মেরিনের সদস্যদের দ্বারা জব্দ করা হয়। জাহাজটি ভেনেজুয়েলার জলসীমা ছাড়ার পরপরই নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ নীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই জব্দের পাশাপাশি, ক্যারাকাসের নতুন সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে দ্বিমুখী কৌশল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একদিকে তেল জাহাজের জব্দের মাধ্যমে অবরোধ বজায় রাখা, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব শক্তিশালী করার লক্ষ্য স্পষ্ট। ভবিষ্যতে এই দ্বিপাক্ষিক মিথস্ক্রিয়া কীভাবে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপট ও তেল শিল্পকে রূপান্তরিত করবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।



