বিপিএল টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে রাইডার্সের জয় এবং হাসান মাহমুদের ধারাবাহিক উইকেট সংগ্রহ মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পুরস্কার বিতরণী শেষে তিনি সংবাদ সম্মেলনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় আশেপাশের মানুষগুলো আনন্দে ঝলমল করছিল, তবে তার মুখে কেবল হালকা হাসি এবং নির্লিপ্ত ভাব দেখা গিয়েছিল।
হাসান সবসময়ই মাঠে তার কাজের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেতে পছন্দ করেন। একসময় ব্যাটসম্যানদের আউটের পর উদযাপন না করার জন্য তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, তবে এখন তিনি টার্গেট অর্জনের পর সংযত উদযাপন করেন, যা তার গেমের মানসিকতা ও শৃঙ্খলাকে প্রতিফলিত করে।
এই সিজনে তিনি ধারাবাহিকভাবে উইকেট নিচ্ছেন। টুর্নামেন্টের সূচনা থেকে এখন পর্যন্ত একমাত্র ম্যাচে তিনি উইকেট নিতে পারেননি; ঐ ম্যাচে তার দল মাত্র ৬১ রানে আটকে গিয়েছিল এবং তিনি দুই ওভারে ৯ রান দিয়ে শেষ করেছেন। বাকি সব ম্যাচে তিনি কমপক্ষে এক উইকেট নিশ্চিত করেছেন, নতুন বল হোক বা পুরোনো বল, তার বোলিং সবসময় তীক্ষ্ণতা বজায় রেখেছে।
নোয়াখালীতে রাইডার্সের প্রথম জয় তার হাতের স্পর্শে এসেছে, যা তার দলের জন্য বড় একটি সাফল্য হিসেবে ধরা পড়েছে। দলের ধারাবাহিক ছয় ম্যাচের পরাজয়ের পর, শুক্রবারের ম্যাচে রাইডার্স ২৬ রানে চারটি উইকেট নিয়ে রাইডার্সকে পরাজিত করে, এবং হাসানকে ম্যান অব দা ম্যাচের সম্মান প্রদান করা হয়।
হাসানের উইকেট সংখ্যা বর্তমানে ১২, যা মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে সমান। উভয়ের পেছনে শারিফুল ইসলাম আছেন, যিনি ১৩টি উইকেট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। টুর্নামেন্টে ছয়টির বেশি উইকেট নেওয়া ১৩ বোলারের মধ্যে হাসান সর্বনিম্ন ইকোনমি ৬.০৪ রন পার ওভার রেকর্ড করে, যা তাকে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার হিসেবে তুলে ধরেছে।
অতীত ছয় মাসে তিনি বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে ছিলেন এবং বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও অন্তর্ভুক্ত হননি। তবে নির্বাচনের শেষ তারিখ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত, তাই তার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এখনো সুযোগ থাকতে পারে।
রাইডার্সের পরবর্তী ম্যাচটি আগামী সপ্তাহে নোয়াখালীতে নির্ধারিত, যেখানে তারা শীর্ষ টেবিলের দলগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টের অবশিষ্ট অংশে প্রতিটি দলই পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা করবে, এবং হাসানের বোলিং পারফরম্যান্স টিমের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সিজনে রাইডার্সের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে কিছু উত্থান-পতন দেখা গেছে, তবে হাসানের ধারাবাহিক উইকেট সংগ্রহ দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমর্থন করেছে। তার নির্লিপ্ত স্বভাব এবং মাঠে দৃঢ় মনোভাব তাকে দলের জন্য অমূল্য সম্পদ করে তুলেছে।
টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে রাইডার্সের লক্ষ্য টেবিলের শীর্ষে পৌঁছানো, এবং হাসানের বোলিং দক্ষতা সেই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার ইকোনমি এবং উইকেটের সংখ্যা দেখায় যে তিনি চাপের মুহূর্তে কীভাবে পারফর্ম করেন।
সামগ্রিকভাবে, হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ধারাবাহিকতা এবং শৃঙ্খলা রাইডার্সকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে, এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সুযোগের জন্য তার নাম আবার উঁচুতে এসেছে।



