27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ও সংবিধান রেফারেন্ডে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ও সংবিধান রেফারেন্ডে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা

ঢাকা – ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে জুলাই চাটারের অধীনে সংবিধান সংশোধনী রেফারেন্ডের ফলাফলও নির্ধারিত হবে। এই দুটো গুরুত্বপূর্ণ ভোটে দেশের অর্ধেকেরও বেশি তরুণ নাগরিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

গত তিনটি নির্বাচনের তুলনায় এখন ভোটার তালিকায় তরুণদের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিল ৮১,০৮৭,০০৩, যেখানে ১৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে ১২৭,৬৯৫,১৮৩ হয়েছে; এর মধ্যে ৬২,৮৭৯,০৪২ নারী ভোটার অন্তর্ভুক্ত। এই বৃদ্ধির ফলে প্রায় অর্ধেক ভোটার তরুণ বয়সের, যা বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশন ও জার্নালিজমের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী আয়শা তফাইল এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “Voting is often described as a civic duty, but for young people like me, the decision to vote or not is shaped by hope, and lived reality.” তিনি আরও যোগ করেন, “On one hand, I want to vote because it is one of the direct ways I can participate in shaping my country’s future. As a student, I worry about employment opportunities, education quality, and the rising cost of living. Casting a vote makes me feel that my voice, however small, matters. We signal that we care about governance, accountability, and the direction Bangladesh is heading,” এবং “I believe voting has value. Even if the system is imperfect, choosing not to participate only weakens the influence of young voices further.” তার কথায় দেখা যায়, তরুণ ভোটারদের জন্য ভোটদান কেবল নাগরিক দায়িত্ব নয়, ভবিষ্যৎ গঠনের সরাসরি উপায়।

ইলেক্টোরাল রিফর্ম কমিশনের চেয়ারবৃন্দ বাদিয়ুল আলম মজুমদারও তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ না হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তরুণদের স্বর কমে যাবে।

তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা শুধুমাত্র জাতীয় পার্লামেন্টের গঠনেই সীমাবদ্ধ নয়। জুলাই চাটারের অধীনে গৃহীত সংবিধান সংশোধনী রেফারেন্ডে তরুণদের ভোটের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এই রেফারেন্ডে দেশের মৌলিক কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে। রেফারেন্ডের বিষয়বস্তু নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে তরুণ ভোটারদের ভোটই শেষ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় তরুণদের অংশগ্রহণের হার বাড়ার পেছনে সাম্প্রতিক সামাজিক আন্দোলন ও সংস্কারমূলক নীতির প্রভাব রয়েছে। ২০২২-২০২৩ সালের ব্যাপক প্রতিবাদ এবং পরবর্তী সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে এখন ভোটদানকে তারা কেবল অধিকার নয়, সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটার শিক্ষা কর্মসূচি এবং নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও যুব কেন্দ্রগুলোতে ভোটার সচেতনতা কর্মশালা চালু করা হয়েছে, যেখানে তরুণদের ভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।

অবশেষে, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একমত যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে এবং সংবিধান রেফারেন্ডে তরুণ ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণের ফলে সরকারী নীতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সামাজিক সংস্কারগুলোতে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যাবে। এই পরিবর্তনগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সুতরাং, আগামী মাসে নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন করে গড়ে তুলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments