অভিষেক বচ্চন, বোলিভুডের পরিচিত মুখ, সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট খাতে পদার্পণ করে গিফট সিটি, গুজরাটে একটি নতুন প্রকল্পের সূচনা করেন। এই উদ্যোগে তিনি অ্যানন্দ পাণ্ডিতের প্রতিষ্ঠিত স্রি লোটাস ডেভেলপারস অ্যান্ড রিয়েলটি লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছেন।
অ্যানন্দ পাণ্ডিত, চলচ্চিত্র উৎপাদন ও রিয়েল এস্টেট উভয় ক্ষেত্রেই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, বচ্চন পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি পূর্বে প্রকাশ করেছেন যে, কোনো সিনেমা প্রকল্পের কথা ভাবতে গিয়ে তিনি আমিতাভ বচ্চনের উপস্থিতি ছাড়া কল্পনা করতে পারেন না।
বচ্চন ও পাণ্ডিতের সহযোগিতা প্রথমবারের মতো রিয়েল এস্টেটের মঞ্চে দেখা যায়। দুজনের পূর্বের সংযোগের মূল স্তম্ভ ছিল OTT সিরিজ “দ্য বিগ বুল”-এ দুজনের যৌথ কাজ, যেখানে অভিষেকের অভিনয় ও পাণ্ডিতের প্রযোজনা উভয়ই প্রশংসিত হয়েছিল।
গিফট সিটি, ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র, উচ্চমানের আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য। এই প্রকল্পে স্রি লোটাস ডেভেলপারসের লক্ষ্য হল লাক্সারি ও আল্ট্রা-লাক্সারি সেগমেন্টে আধুনিক ডিজাইন ও টেকসই কাঠামো সমন্বিত সম্পত্তি নির্মাণ করা।
প্রকল্পের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ও সম্পত্তির সংখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় পক্ষই এটিকে রিয়েল এস্টেট বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গিফট সিটির বিশেষ কর সুবিধা ও অবকাঠামো এই উদ্যোগকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
অভিষেক বচ্চন এই পদক্ষেপকে নিজের ব্যবসায়িক পরিসর বিস্তারের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার গড়ে তুলার পর এখন তিনি রিয়েল এস্টেটের মাধ্যমে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছেন।
অ্যানন্দ পাণ্ডিতের কোম্পানি, যা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন শহরে উচ্চমানের আবাসিক প্রকল্প সম্পন্ন করেছে, গিফট সিটিতে এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে তার পোর্টফোলিওতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করতে চায়। তিনি পূর্বে বলেছিলেন, গিফট সিটির উন্নয়ন ধারা রিয়েল এস্টেট খাতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনগুলোতে আধুনিক সুবিধা, স্মার্ট হোম প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, গিফট সিটির আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হবে, যাতে ভাড়াটিয়া ও ক্রেতাদের উচ্চমানের জীবনযাপন নিশ্চিত হয়।
বচ্চনের অংশীদারিত্বের ঘোষণার পর রিয়েল এস্টেট বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তার নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের বিক্রয় ও বুকিং দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাথে, চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে রিয়েল এস্টেটের সংযোগ নতুন ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলতে পারে। দু’জনের সমন্বয় কেবল বিনোদন জগতের নয়, বরং সম্পত্তি বাজারের দৃষ্টিকোণেও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা অনুষ্ঠানটি গিফট সিটির প্রধান হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সময়সূচি ও বিক্রয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে।
অভিষেক বচ্চন ও অ্যানন্দ পাণ্ডিতের এই যৌথ উদ্যোগ রিয়েল এস্টেট ও বিনোদন শিল্পের সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গিফট সিটিতে এই প্রকল্পের সফলতা উভয় ক্ষেত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত আপডেট করা হবে, যাতে আগ্রহী ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গিফট সিটির উন্নয়নশীল পরিবেশে এই নতুন প্রকল্পটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



