ঢাকার কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ দীর্ঘ সময়ের জন্য কমে যাওয়া এবং আমিনবাজারে ট্রলারের আঘাতে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (টিটাস গ্যাস) ও এলপিজি সিলিন্ডার উভয় ক্ষেত্রেই সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া বিশেষ করে শেহেরটেকের ১১ নম্বর সড়কের বাসিন্দা আহমদ উল্লাহের বাড়িতে স্পষ্ট, যেখানে সকাল সাতটার পর থেকে চাপ হ্রাস পায় এবং দুপুরে সম্পূর্ণ গ্যাস না থাকায় রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ে।
টিটাস গ্যাসের নেটওয়ার্কে চাপের সমস্যার মূল কারণ হিসেবে পুরনো পাইপলাইন এবং সম্প্রতি ঘটিত দুর্ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে। ১৭ ঘণ্টা আগে আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে অবস্থিত গ্যাস পাইপলাইনে ট্রলারের নোঙরের আঘাতের ফলে লিকেজ ঘটায় এবং সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাসের কোনো প্রবাহ নেই, ফলে চুলা জ্বালানো সম্ভব নয়।
ঢাকায় গ্যাসের প্রধান উৎস দুটি: টিটাস গ্যাসের নেটওয়ার্ক থেকে সরবরাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বেসরকারি কোম্পানির বিক্রি করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। উভয় ক্ষেত্রেই সরবরাহের ঘাটতি বাজারে তীব্র প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে এলপিজি ক্ষেত্রে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় সিলিন্ডার বাজারে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ফলে গ্রাহকদেরকে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩০৬ টাকা থেকে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বাড়তে হচ্ছে।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও এলপিজি সরবরাহের ঘাটতি গৃহস্থালির দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। রান্নার জ্বালানির অভাবে খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও রেস্টুরেন্টে কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। বাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গ্যাস চুলার ব্যবহার সীমিত হচ্ছে, ফলে ইলেকট্রিক চুলা বা কাঠের চুলায় রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা অতিরিক্ত খরচ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাজারে এলপিজি দামের দ্রুত বৃদ্ধি গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করছে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি ও উচ্চ দামের ফলে গৃহস্থালি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা ভোক্তা ব্যয়ের সামগ্রিক সূচকে প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, গ্যাস পাইপলাইন মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন, যা টিটাস গ্যাসের আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা না ফিরে এলে এলপিজি বাজারে আরও দামবৃদ্ধি হতে পারে, বিশেষ করে যখন আমদানি সীমিত থাকে। গ্যাসের চাপ পুনরুদ্ধার ও পাইপলাইন মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাজারে ঘাটতি বজায় থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন, যাতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসে এবং এলপিজি সরবরাহের ঘাটতি দূর হয়।
দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও বিকল্প জ্বালানির উৎসের বিকাশের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং এলপিজি দামের উত্থান উভয়ই শক্তি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই, গ্যাস নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণ, আমদানি নীতি সমন্বয় এবং বিকল্প জ্বালানির উৎসের বিকাশে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংক্ষেপে, ঢাকা শহরে গ্যাসের চাপ হ্রাস ও পাইপলাইন ক্ষতির ফলে গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক খাতে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা এলপিজি দামের তীব্র বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। এই পরিস্থিতি স্বল্পমেয়াদে ভোক্তা ব্যয় বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে শক্তি নিরাপত্তা ও মূল্য স্থিতিশীলতার জন্য কাঠামোগত সমাধান প্রয়োজন।



