22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগুয়ালিয়োর পাবলিক দেয়ালে নারীর সিলুয়েটের ভাঙ্গচুর, সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়েছে

গুয়ালিয়োর পাবলিক দেয়ালে নারীর সিলুয়েটের ভাঙ্গচুর, সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়েছে

মধ্য ভারতের গুওয়ালিয়োর শহরে একটি পাবলিক দেয়ালে নারীর যোগ সিলুয়েটের অশ্লীল চিহ্ন দেখা যায় এবং তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গত সপ্তাহে একটি স্কুল শিক্ষার্থী ইনস্টাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে সিলুয়েটের অঙ্গের অংশে কালো রঙে আঁকা রেখা ও সাদা চিহ্ন দেখা যায়। শিক্ষার্থী জানান, তিনি প্রতিদিন ঐ দেয়ালটি পেরিয়ে যান এবং এই ধ্বংসাবশেষ দেখে ক্রোধ ও অস্বস্তি অনুভব করেন।

ভিডিওটি দ্রুতই শেয়ার হয় এবং ব্যবহারকারীরা মন্তব্যে প্রকাশ করেন যে এই ধরনের কাজ নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতি আঘাত করে। বহু মন্তব্যে বলা হয়, “মহিলা নিরাপদ নয় এমনকি গ্রাফিতিতেও” এবং “এটি নারীর গৌরবের ওপর আক্রমণ”।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে “লজ্জাজনক” ও “অশ্লীল” হিসেবে বর্ণনা করে, এবং উল্লেখ করে যে এই ধরণের ভাঙ্গচুর গুওয়ালিয়োর নাগরিকদের মানসিকতা ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের প্রতিফলন।

দেয়ালটির রঙিন সিলুয়েটগুলো মূলত শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন শহরে যোগের প্রচার বাড়াতে গ্লোবাল ইয়োগা ডে উদযাপন এবং ঐতিহ্যবাহী যোগ আসনগুলোকে গ্রাফিতি আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। গুওয়ালিয়োর এই মুরালগুলোও সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা লোকেন্দ্র সিংহ, যিনি কলেজের ছাত্র ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়, নিজে হাতে কালো রঙে অশ্লীল চিহ্নগুলো ঢেকে দেন। তিনি জানান, “সার্বজনীন স্থানে কিছু ঠিক করা দরকার, আর কেউ না করলে আমি নিজেই করব”। তার কাজের ভিডিওও দ্রুতই শেয়ার হয় এবং অনেকে তার সাহসের প্রশংসা করেন।

লোকেন্দ্রের উদ্যোগের পর গুওয়ালিয়োর পৌরসভার মুখপাত্র উমেশ গুপ্তা জানান, এই ভাঙ্গচুরের দায়িত্ব “কোনো অনির্দিষ্ট গোষ্ঠী”র ওপর আরোপ করা হয়েছে। গুপ্তা উল্লেখ করেন, শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং জনসাধারণের স্থানে অনুপযুক্ত চিত্র না থাকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পৌরসভার কর্মীরা পরবর্তীতে পুরো দেয়ালটি সাদা রঙে রঙ করে সমস্যার সমাধান করার সিদ্ধান্ত নেন। রঙ করার কাজের পরে স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশ পায় যে, এই পদক্ষেপটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ মূল সমস্যাটি হল সমাজের মানসিকতা ও লিঙ্গের প্রতি সম্মানের অভাব।

সক্রিয় কর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেন, কেবল দেয়াল রঙ করা যথেষ্ট নয়; শিক্ষামূলক কর্মসূচি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লিঙ্গ সমতা প্রচারমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এই ধরনের ভাঙ্গচুরের মূল কারণ দূর করা দরকার। তারা উল্লেখ করেন, গুওয়ালিয়োর মতো শহরে যুবক-যুবতীরা এই ধরনের ঘটনা দেখে মানসিকভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

গুওয়ালিয়োর পুলিশ এখনও এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখা চিহ্নগুলোকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্ত করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক মিডিয়া পোস্ট বিশ্লেষণ করা হবে।

অধিকন্তু, গুওয়ালিয়োর পৌরসভার আইন বিভাগে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে, অশ্লীল চিহ্ন তৈরি করা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইনি দায়বদ্ধ করা হবে এবং শাস্তি নির্ধারণের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।

এই ঘটনার পর গুওয়ালিয়োর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যুব সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিঙ্গ সমতা, সম্মান ও সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতে কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।

সামগ্রিকভাবে, গুওয়ালিয়োর এই ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা ও ভাঙ্গচুরের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সাদা রঙে দেয়ালটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে, তবে সমাজের মানসিক পরিবর্তন ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব হবে।

গুওয়ালিয়োর সিটি মিউনিসিপাল কর্পোরেশন ভবিষ্যতে এমন ধরনের ভাঙ্গচুর রোধে কঠোর নীতি প্রণয়ন এবং পাবলিক আর্টের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে, নাগরিকদের সহযোগিতা ও তৎপরতা এই ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা জোর দিয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments