যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে নেওয়ার দাবি আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে; ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স‑ফ্রেডেরিক নিলসেন সোমবার ফেসবুকে স্পষ্টভাবে বললেন, “এখন আর যথেষ্ট”।
ট্রাম্প এই মন্তব্য এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ওয়াশিংটনে যাওয়ার পথে করেন। তিনি গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে, “জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, এবং ডেনমার্ক তা বাধা দিতে পারবে না” বলে মন্তব্য করেন। এরপর তিনি দুই মাসের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, ২০ দিনের মধ্যে আবার কথা হবে বলে জানিয়ে দেন।
নিলসেনের ফেসবুক পোস্টে তিনি কোনো চাপ, কোনো কল্পনা বা যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের স্বপ্ন আর সহ্য করবেন না বলে জোর দেন। তিনি সংলাপের দরজা খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে, আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলোচনা হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাস্কাল কনফাভ্রোইক্স টিএফ১ টেলিভিশনে ডেনমার্কের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে, “সীমা জোরপূর্বক পরিবর্তন করা যায় না” বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য ইউরোপীয় দেশগুলোর ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতি সমন্বিত বিরোধের অংশ হিসেবে দেখা যায়।
ট্রাম্পের এই রূপান্তরবাদী নীতি সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে আরও তীব্রতা পেয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এবং ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা পরিচালনা ও তার বিশাল তেল সংরক্ষণ ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পকে যখন ভেনেজুয়েলা সামরিক অভিযানের গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের ওপর প্রভাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি উত্তর দেন যে সিদ্ধান্ত অন্যদের হাতে, নিজে তিনি নিশ্চিত নন, তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। এই মন্তব্যে তিনি গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত ও সম্পদগত গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেন।
ভেনেজুয়েলা অপারেশন আর্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে পুনরায় তীব্র করেছে; গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান সামুদ্রিক ও সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহকে শুধু ভূ-রাজনৈতিক নয়, সম্পদসংক্রান্ত হিসাবেও দেখা হচ্ছে।
ডেনমার্ক সরকার দীর্ঘদিন থেকে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার নীতি বজায় রেখেছে এবং কোনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ডেনমার্কের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা বজায় রাখে।
ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মানের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের একতরফা দাবি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, ফ্রান্সের স্পষ্ট অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার সূচক হতে পারে।
ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত; নিলসেনের সতর্কতা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সংহতি যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে বাধ্য করতে পারে। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ এবং ভেনেজুয়েলা হস্তক্ষেপের পরিণতি উভয়ই যুক্তরাষ্ট্র‑ইউরোপীয় সম্পর্ক ও আর্টিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



