অভিনেত্রী ক্যাট ডেনিংস সম্প্রতি মার্ভেল স্টুডিওর তার দেহের স্ক্যানিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন যে মার্ভেল তার শারীরিক তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং এ কারণে ভবিষ্যতে তাকে যেকোনো প্রকল্পে ডিজিটালভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। একই সময়ে তিনি স্পষ্ট করে বললেন যে তিনি “অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে” ছবিতে অংশগ্রহণ করছেন না।
ডেনিংসের এই বক্তব্যের মূল বিষয় হল তার বর্তমান প্রকল্পের অস্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বললেন যে তিনি ছবিতে নেই এবং যদি থাকতেও পারেন, তবে তা গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। তার এই স্পষ্ট অস্বীকৃতি দর্শকদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি করেছে, কারণ তিনি মার্ভেল ইউনিভার্সে আগে থেকেই পরিচিত।
ক্যাট ডেনিংসের মার্ভেল জগতে প্রথম উপস্থিতি ২০১১ সালের “থর” চলচ্চিত্রে হয়। এরপর তিনি ২০১৩ সালের “থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড” এবং ২০২২ সালের “থর: লাভ অ্যান্ড থান্ডার” সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পে ডার্সি নামের বিজ্ঞানী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ডেনিংসের চরিত্রটি ডিজনি+ সিরিজ “ওয়ান্ডাভিশন”-এও দেখা যায় এবং অ্যানিমেটেড সিরিজ “হোয়াট ইফ…”-এর চারটি পর্বে কণ্ঠ দিয়েছেন।
ডেনিংসের মতে, মার্ভেল তার দেহের স্ক্যান সম্পন্ন করেছে, ফলে তিনি এখন সম্পূর্ণ সিস্টেমের অংশ। তিনি রসিকতা করে বলছেন, “এখন তারা আমাকে যেকোনো জায়গায় রাখতে পারে”। এই মন্তব্যটি বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে চরিত্রের ডিজিটাল পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে, যেখানে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মাধ্যমে চরিত্রকে স্ক্রিনে ফিরিয়ে আনা যায়।
হলিউডে শারীরিক স্ক্যানের ব্যবহার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে। স্ক্যান করা ডেটা দিয়ে ডিজিটাল ক্লোন তৈরি করে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়, যা অভিনেতাদের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই চরিত্রকে পুনরায় তৈরি করতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়া শিল্পের উৎপাদন খরচ কমাতে এবং সময়সীমা দ্রুত করতে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়।
অভিনেত্রী চার্লিজ থেরন ২০২২ সালের মে মাসে টুইটারে প্রকাশ করেন যে তিনি “ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অফ ম্যাডনেস” ছবির জন্য স্ক্যান করিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই স্ক্যানটি তার চরিত্রের ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়তা করেছে। থেরনের এই উদাহরণটি দেখায় যে মার্ভেল এবং অন্যান্য বড় স্টুডিওগুলো ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে, অভিনেতা নিকোলাস কেইজ স্ক্যানিং প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিউ ইয়র্কার সাক্ষাৎকারে জানান যে তিনি প্রাইম ভিডিওর “স্পাইডার-ম্যান নোয়ার” এবং অন্যান্য আসন্ন প্রকল্পের জন্য স্ক্যান করিয়েছেন। কেইজের মতে, স্ক্যানের মাধ্যমে তার দেহের ডিজিটাল কপি তৈরি হয়ে তা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হতে পারে, যা তিনি AI প্রযুক্তির অপব্যবহার হিসেবে দেখেন। তিনি ভবিষ্যতে নিজের দেহের অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
ডেনিংসের মন্তব্য এবং অন্যান্য শিল্পীদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দেখা যায় যে শারীরিক স্ক্যান এবং AI-ভিত্তিক ডিজিটাল পুনর্নির্মাণ এখন চলচ্চিত্র ও সিরিজের উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। যদিও এটি প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিধাজনক, তবে অভিনেতাদের গোপনীয়তা ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য স্পষ্ট নীতি প্রয়োজন। ভবিষ্যতে ক্যাট ডেনিংসের মতো পরিচিত চরিত্রের ডিজিটাল উপস্থিতি কী রকম হবে, তা সময়ই বলবে।



