27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধফেসবুকের বন্ধুর অনুরোধে স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম ক্যাটফিশ উন্মোচিত

ফেসবুকের বন্ধুর অনুরোধে স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম ক্যাটফিশ উন্মোচিত

কিলমার্নক শহরে ২০১৪ সালের শেষের দিকে এক তরুণী, যিনি এক সময় মিস স্কটল্যান্ডের ফাইনালিস্ট এবং পরে এয়ারলাইন স্টুয়ার্ড হিসেবে বিদেশে ভ্রমণ করতেন, তার দাদার স্ট্রোকের পর ঘরে ফিরে একটি অচেনা ব্যক্তির ফেসবুক বন্ধুর অনুরোধ পায়। ওই অনুরোধের প্রেরক ডেভিড গ্রাহাম নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে দাদার চিকিৎসক বলে পরিচয় দেন।

অভি ড্রেপার, ৩৫ বছর বয়সী, প্রোফাইল ছবিতে দেখা সুদর্শন পুরুষকে দেখে প্রথমে তা বাস্তব বলে গ্রহণ করেন। ডেভিডের ফেসবুক পেজে হাসপাতালের ভিতরের ছবি, সহকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও এবং তার বোনের কিছু ক্লিপ দেখা যায়, যা তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিল।

তবে অভির মা জানান যে তিনি কখনো গ্রাহাম নামের কোনো ডাক্তারকে হাসপাতালে দেখেননি। এই তথ্যের পরেও ডেভিডের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যায়, যখন তিনি একটি নৃত্য দল গঠন করে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেন। ডেভিড তখন গ্লাসগোরের এক হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চ্যারিটি বালের জন্য নর্তকী খুঁজছেন বলে জানিয়ে একটি আমন্ত্রণ পাঠায়।

অভি এই আমন্ত্রণটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন, ফলে একটি সতর্কবার্তা তার ইনবক্সে আসে: “যাই করো না, ডেভিড গ্রাহামকে বিশ্বাস করো না।” সতর্কতা পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ হোটেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন, কিন্তু হোটেল জানায় যে ঐ তারিখে কোনো ইভেন্টের রেকর্ড নেই।

এদিকে ডেভিডের ডাক্তার রেজিস্ট্রিতে অনুসন্ধান করা হলে দেখা যায় তিনি কোনো মেডিকেল রেজিস্ট্রিতে তালিকাভুক্ত নন। ফলে তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ বাড়ে। অভি আরও তদন্তের জন্য তার ফেসবুক প্রোফাইলের গভীরে যান, একই সময়ে অন্যান্য নারীর সঙ্গে আলাপ করে একটি ফেসবুক গ্রুপ “007” গঠন করেন।

গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে একজন জানান যে গ্রাহাম তাকে মারবেলার ছুটির সময় ফোন করে কল দিয়েছিলেন এবং এক সময় ফোনটি আদেল নামের অন্য এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেছিল। আদেলকে নিয়ে কোনো তথ্য না থাকলেও, গ্রাহাম তাকে কিলমার্নকের এক নার্স হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

অভি ফেসবুকে আদেলের ছবি দেখে তৎক্ষণাৎ চিনে ফেলেন; তিনি দাদার হাসপাতালে থাকা সময়ে একই নার্সকে দেখেছেন। আদেল সত্যিই নার্স ছিলেন, তবে তার সঙ্গে গ্রাহামের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

এই তথ্যের ভিত্তিতে অভি ডেভিড গ্রাহামের প্রকৃত পরিচয় ও উদ্দেশ্য নির্ণয়ের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেছে যে গ্রাহাম কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসক নন এবং তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে বহুজনকে প্রতারণা করার চেষ্টা করছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রাহাম বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কে একাধিক ভুয়া পরিচয় তৈরি করে নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে দান, চ্যারিটি ইভেন্ট বা চাকরির সুযোগের নামে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।

অভি ড্রেপার এই ঘটনার পর থেকে নিজের সামাজিক মিডিয়ার নিরাপত্তা বাড়িয়ে নিয়েছেন এবং অন্যদের সতর্ক করতে অনলাইন পরিচয় যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। তার মতে, কোনো অচেনা ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

স্থানীয় পুলিশ এখনো গ্রাহামের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি হটলাইন চালু করেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments