ওয়াশিংটনে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে একত্রিত হন, যেখানে তিনি দেশের তেল অবকাঠামোতে বিশাল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। মিটিংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার বিশাল প্রমাণিত তেল রিজার্ভকে পুনরায় সক্রিয় করা এবং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী বড় তেল সংস্থাগুলোকে কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৫ বিলিয়ন পাউন্ড) ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ করতে হবে, তবে শিল্প বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কোম্পানি এই পরিমাণের অর্থ প্রবাহে দ্বিধা করবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কের কারাগারে বন্দি করেছে। মাদুরোর সহ-প্রধান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ, যাকে অধিক বাস্তববাদী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এখন অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন।
মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সংস্থার নেতারা স্বীকার করেছেন যে ভেনেজুয়েলা বিশাল তেল সম্পদ ধারণ করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে দেশীয় সরকার এবং জনগণের স্বাগত, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নীতিমালার মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া বড় আর্থিক প্রবাহ সম্ভব নয়।
এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস উল্লেখ করেন, “আমাদের সম্পদ দু’বার জব্দ হয়েছে, তৃতীয়বার প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রয়োজন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলা বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত নয়।” এই মন্তব্যটি তেল সংস্থাগুলোর বর্তমান অবস্থার প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করে।
ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পের ইতিহাস একশের বেশি বছর পুরনো, যখন প্রথম তেল আবিষ্কৃত হয়, তখন থেকে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জটিল সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ২০০৭ সালে জাতীয়করণের ফলে বহু বিদেশি সংস্থার সম্পদ জব্দ হয়, যা আজও আইনি ও আর্থিক বিরোধের মূল কারণ।
আজও চেভরন একমাত্র বড় আমেরিকান তেল সংস্থা যা ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্পেনের রেপসোল এবং ইতালির এনি সহ কয়েকটি ইউরোপীয় সংস্থা হোয়াইট হাউসে উপস্থিত ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পুনরায় আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
এক্সন এবং কনোকোফিলিপস, যেগুলোও মিটিংয়ে অংশ নিয়েছে, ২০০৭ সালের সম্পদ জাতীয়করণের পর থেকে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি লড়াইয়ে লিপ্ত। তারা দাবি করে যে তাদের সম্পদ অবৈধভাবে জব্দ হয়েছে এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।
ট্রাম্প মিটিংয়ের সময় উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্পের অংশগ্রহণ ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং তিনি আন্তর্জাতিক তেল সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বড় আর্থিক সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তবে তিনি একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনি কাঠামোর উন্নতিরও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাজার বিশ্লেষকরা এই মিটিংকে ভেনেজুয়েলার তেল রিজার্ভের পুনরায় মূল্যায়নের সূচনা হিসেবে দেখছেন, তবে বিনিয়োগের পরিমাণ এবং সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত। তেল মূল্যের ওঠানামা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের জটিলতা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের উদ্যোগের পরেও বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি এখনো স্পষ্ট নয়, এবং তেল সংস্থাগুলো ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উপর নির্ভরশীল। বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও রাজনৈতিক ও আইনি বাধা দূর না হওয়া পর্যন্ত মূলধন প্রবাহ সীমিত থাকবে।



