FA কাপের পঞ্চম রাউন্ডে ওয়্রেক্সহ্যাম ও নটিংহাম ফরেস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্যুটআউটের মাধ্যমে ওয়্রেক্সহ্যাম জয়লাভ করে। ৯০ মিনিটের শেষে কলাম হাডসন-ওডয়ি বেঞ্চ থেকে বেরিয়ে দু’টি গোল করে সমতা রক্ষা করেন, ফলে ম্যাচটি পেনাল্টি সিরিজে গিয়ে শেষ হয়। শ্যুটআউটে ওয়্রেক্সহ্যামের গোলকিপার আর্থার ওকোনকো দু’টি শট বাঁচিয়ে দলকে অপ্রত্যাশিত জয় নিশ্চিত করেন।
ফরেস্টের দিক থেকে লিবারাটো কাকেস, অলি রাথবোন ও ডম হায়াম শ্যুটআউটে তিনটি পেনাল্টি সফল করে ৩-১ স্কোরে এগিয়ে ছিলেন, তবে ওকোনকোর দুইটি রক্ষা করা শটের ফলে ফলাফল উল্টে যায়। ফরেস্টের জন্য FA কাপের গুরুত্ব প্রিমিয়ার লিগের বেঁচে থাকা ও ইউরোপা লীগে অংশগ্রহণের চেয়ে কম, তাই কোচ শিন ডাইচে ম্যাচে আটজন পরিবর্তন করে দলীয় ঘাঁটিতে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়েছিলেন।
ম্যাচের সূচনা থেকেই ফরেস্টের লাইনআপে গুণগত মান দেখা যায়। দু’ মিনিটের মধ্যে দিলান বাকোয়া ইগোর জেসুসকে পেনাল্টি এলাকায় পাস দেন, তবে জেসুস শটটি উপরে পাঠিয়ে দেন। স্টেডিয়ামটি পূর্ণ ছিল এবং ওয়্রেক্সহ্যাম পূর্বে চারটি ধারাবাহিক জয় অর্জন করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামেন।
ফরেস্টের ডগলাস লুইজ কাছাকাছি থেকে গলে গোল করেন, তবে রেফারি পল টিয়ার্নি সহকারী রেফারির সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেন যে লুইজের শটটি লুপিং বলকে হাতে নিয়েছে, ফলে গোলটি বাতিল হয়। এই রাউন্ডে ভিডিও সহকারী রেফারি (VAR) ব্যবহার করা হয়নি, কারণ FA কাপের পঞ্চম রাউন্ড পর্যন্ত VAR প্রয়োগ করা হয় না।
ওয়্রেক্সহ্যাম সরল আক্রমণাত্মক পদ্ধতি গ্রহণ করলেও তাদের প্রধান লক্ষ্যশক্তি কিফার মুরের অনুপস্থিতি দলকে ফরেস্টের ডিফেন্সে ভয় দেখাতে বাধা দেয়। প্রথমার্ধে বড় কোনো কৌশলগত পরিবর্তন না করেও দলটি দ্রুত আক্রমণ চালায়। মাঝখানে কেন্দ্র-ব্যাক মোরাটোকে স্যাম স্মিথের দ্বারা বল ছিনিয়ে নেওয়া হয়, ফলে নাথান ব্রডহেড একক সুবিধা নিয়ে দ্রুত কাউন্টার আক্রমণ চালান। তবে স্মিথের থ্রু-বলটি মাট্স সেলসের সামনে গিয়ে চওড়া হয়ে যায়।
ফরেস্টের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবারও বল হারায়, এইবার ওমারি হাচিনসন বল হারিয়ে দেয় এবং ওয়্রেক্সহ্যামের আক্রমণ পুনরায় শুরু হয়। শ্যুটআউটে ওকোনকোর দুইটি রক্ষা করা শট দলকে শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয়, যা প্রিমিয়ার লিগের দলকে বাদ দিয়ে একটি নিম্ন স্তরের ক্লাবের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তী রাউন্ডে ওয়্রেক্সহ্যাম তাদের জয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়, আর ফরেস্ট লিগের বেঁচে থাকা ও ইউরোপা লীগে অংশগ্রহণের জন্য তাদের শক্তি কেন্দ্রীভূত করবে। উভয় দলের জন্য এই ম্যাচটি কৌশলগত ও মানসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে।



