ইরানের রাজধানী তেহরানে গত বৃহস্পতিবার রাতের বিশাল প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ফলে দুইশতাধিক demonstrator নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছয়টি তেহরান হাসপাতালেই এই মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে। ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের এক চিকিৎসক গোপনীয়তা বজায় রেখে জানিয়েছেন যে, শহরের ছয়টি প্রধান হাসপাতালে মোট ২০৬ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। অধিকাংশ শিকার গুলিতে মারা গেছেন এবং বেশিরভাগই তরুণ বয়সের। রোগীর দেহগুলোকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর দ্রুত স্থানান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসক আরও জানান, গুলিবর্ষণের পর হাসপাতালে থেকে মৃতদেহগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেহরানের উত্তর অংশে একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে গুলিবর্ষণ ঘটেছে, যেখানে মেশিনগান থেকে ধারাবাহিক গুলি চালানো হয়। সেখানে অন্তত ত্রিশজনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, বেশিরভাগই তরুণ।
বিক্ষোভের সূচনা ২৮ ডিসেম্বর থেকে, এবং এখন পর্যন্ত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবাদকারীরা মূলত অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক দমন নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। বৃহস্পতিবার রাতের তীব্রতা বাড়ার পর, শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ অন্যান্য শহরে হাজার হাজার মানুষ আবার সড়কে সমবেত হয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ব সতর্কতার পরেও অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প পূর্বে ইরানকে হুমকি দিয়েছিলেন যে, যদি নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিবাদকারীদের হত্যা করে, তবে খামেনি সরকারকে আন্তর্জাতিক শাস্তি দিতে হবে। তবে তেহরানের সরকার এই সতর্কতাকে উপেক্ষা করে গুলিবর্ষণ চালিয়ে গেছে।
এই ঘটনার ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, উভয়ই দেশের ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ ইরানের সরকারকে পুনরায় বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
তবে, মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা এখনও সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যের স্বচ্ছতা সীমিত থাকায়, বাস্তব ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া কঠিন। এই অনিশ্চয়তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



