মরক্কো জাতীয় দল আফ্রিকান নেশনস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যামেরনকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে স্থান নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি মরক্কোর নিজস্ব প্রিন্স মুলায় আব্দেল্লাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশীয় ভক্তদের উচ্ছ্বাসপূর্ণ সাড়া শোনা যায়।
প্রথমার্ধে মরক্কো দ্রুতই একটি সুবিধা অর্জন করে এবং দ্বিতীয়ার্ধে তা রক্ষা করতে সক্ষম হয়। ক্যামেরন আক্রমণাত্মকভাবে খেললেও মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং মাঝখানের নিয়ন্ত্রণ তাদের প্রবাহকে বাধা দেয়।
মরক্কোর পূর্ববর্তী চারটি ম্যাচে দলটি কিছুটা অস্থির এবং অগোছালো ফুটবল দেখিয়েছিল, তবে এই কোয়ার্টার ফাইনালে তারা পূর্বের পারফরম্যান্সের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং সংগঠিত দেখায়। এই পরিবর্তনটি বিশেষ করে প্রথমার্ধের তীব্রতা এবং দ্বিতীয়ার্ধের শৃঙ্খলায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দলটির কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই, যিনি দেশের ফুটবলে বড় প্রত্যাশা বহন করেন, পূর্বে তানজানিয়ার বিরুদ্ধে ১-০ জয় অর্জনের পর ভক্তদের কাছ থেকে সমালোচনার মুখে ছিলেন। তবে তার ৪৬টি ম্যাচে মাত্র চারটি পরাজয়ের রেকর্ড তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, এবং আজকের জয় তার কৌশলগত ধৈর্যের প্রমাণ।
স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে উভয় দলের ড্রেসিং রুমের দৃশ্য দেখানো হয়। মরক্কোর খেলোয়াড়রা মনোযোগী এবং গম্ভীর মুখে প্রস্তুত, আর ক্যামেরনের খেলোয়াড়রা গান গাইতে এবং নাচতে দেখা যায়, যা ম্যাচের আগে উভয় দলের মনোভাবের পার্থক্যকে তুলে ধরেছিল।
খেলাটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মরক্কোর খেলোয়াড়রা তীব্র চাপ প্রয়োগ করে, ধারাবাহিকভাবে কর্নার এবং ফ্রি-কিকের সুযোগ তৈরি করে। এই সুযোগগুলো ক্যামেরনের আক্রমণকে ব্যাহত করে এবং মরক্কোর রক্ষণকে শক্তিশালী করে।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে ক্যামেরনের ডানবাহু জ্যুনিয়র চামাদেউ কাঁধের আঘাত পায়, যখন তিনি নুসসায়ার মাজারুইয়ের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তার অক্ষমতা এবং রক্ষণাত্মক গঠন পরিবর্তন মরক্কোর জন্য অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে আসে।
এই সময়ে মরক্কোর আয়ুব এল কাবি ষষ্ঠ কর্নারটি হেড করে ব্যাক পোস্টের দিকে পাঠায়, যেখানে ব্রাহিম দিয়াজ বলকে নরমভাবে ঠেলে তার টুর্নামেন্টের চতুর্থ গোলটি সম্পন্ন করে। দিয়াজের এই গোলটি দলের আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে এবং ম্যাচের ফলাফলকে নিশ্চিত করে।
দিয়াজের গোলের পর মরক্কো আরও একবার সেট-প্লে থেকে সুযোগ তৈরি করে, যা দলের আক্রমণাত্মক ধারাকে বজায় রাখে। যদিও দ্বিতীয় গোলের বিশদ উল্লেখ মূল প্রতিবেদনে নেই, তবে দলটি এই সুযোগগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে।
ক্যামেরন দলটি ম্যাচের শেষের দিকে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, তবে মরক্কোর রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা এবং ভক্তদের উল্লাসের ফলে তারা স্কোর বাড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মরক্কো জয় নিশ্চিত করে এবং সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নেয়।
এই জয় মরক্কোর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটি ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালে আফকন জিতেছিল এবং এখন ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে বড় অবকাঠামো গড়ে তুলছে। প্রিন্স মুলায় আব্দেল্লাহ স্টেডিয়াম এই অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা প্রদান করে।
মরক্কোর পরবর্তী ম্যাচে তারা সেমিফাইনালে কোন দলকে মুখোমুখি হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে দলটি এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ভক্তদের সমর্থন এবং কোচের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এই পর্যায়ে দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



