বরিশাল‑৩ (বাবুগঞ্জ‑মুলাদী) আসনের আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ৯ জানুয়ারি শুক্রবার রাত আটটায় বাবুগঞ্জ উপজেলার ঘটকেরচর এলাকায় অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচনী পরিকল্পনা ও শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে কথা বলেন।
ফুয়াদ উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদি তার নির্বাচনী এলাকায় আসার পরিকল্পনা করছিলেন এবং তিনি নিজে এই প্রচারণায় অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে সন্ত্রাসী গুলিতে তার আগেই প্রাণ ত্যাগ করতে হয়। তিনি শহীদের রেখে যাওয়া দায়িত্বকে নিজের কাঁধে গ্রহণের আহ্বান জানান, তা রক্তের বদলে পরিশ্রম ও শ্রমের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।
কর্মীসভা ঘটকেরচর গ্রাম ঘরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সদস্যদের সামনে ফুয়াদ শহীদের ত্যাগকে দেশের মঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত করে বললেন, আল্লাহর নিকট শহীদের রেখে যাওয়া আমানতের যথাযথ প্রতিদান পাওয়া যাবে যদি আমরা তার আদর্শ অনুসরণে কাজ করি।
স্থানীয় মুরুব্বি মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি খলিলুর রহমান মিজানের সঞ্চালনায় সভায় আরও কয়েকজন নেতার বক্তব্য শোনা যায়।
বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসারে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বরিশাল‑৩ আসনে এ বি পার্টির প্রার্থীকে মনোনয়ন দাখিল করা যাবে না। তবে জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে সমর্থন জানানো হয়েছে এবং দলীয় কর্মীরা দ্বিগুণ উদ্যমে তার প্রচারণা চালাবে।
বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সৌরভ সরদারও উপস্থিত থেকে পার্টির পরিকল্পনা ও সমর্থন প্রকাশ করেন।
সেশনে এ বি পার্টির জেলা সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বি, যুগ্ম আহ্বায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তানভীর আহমেদসহ দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এই কর্মশালা এ বি পার্টির বরিশাল‑৩ আসনে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে জোটের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হয়। পার্টি ও জোটের মধ্যে সমন্বয় ও কৌশলগত আলোচনা চলমান, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফুয়াদের বক্তব্যে শহীদের ত্যাগকে রাজনৈতিক প্রেরণার উৎস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে সমবেত শক্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
কর্মীসভার শেষে উপস্থিত সদস্যরা শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে একত্রে শোকস্মরণে অংশ নেয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রচারণায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।



