রিক রোমান ওয়গ, যিনি একসময় স্টান্টম্যান হিসেবে কাজ করতেন, তার পরিচালনায় ‘গ্রিনল্যান্ড ২: মাইগ্রেশন’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রটি ২০২৪ সালে বড় পর্দায় প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। এই প্রকল্পটি মূল ‘গ্রিনল্যান্ড’ সিরিজের ধারাবাহিক, যেখানে প্রথম অংশটি ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। ওয়গের দলকে কোভিড‑১৯ মহামারির সময় বাড়ি থেকে কাজ করতে হয়েছিল, ফলে পোস্ট‑প্রোডাকশন কাজটি দূরবর্তীভাবে সম্পন্ন করা হয়।
মহামারির প্রভাবের ফলে বাস্তব জগতে ঘটে যাওয়া রোগীর ত্যাগ, সরবরাহের ঘাটতি এবং জনসাধারণের আতঙ্কের দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রের থিমের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ‘গ্রিনল্যান্ড’ সিরিজে একটি ধ্বংসাত্মক ধূমকেতুর ফলে পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, আর বাস্তব জীবনে স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি সেবা কর্মীদের বীরত্বপূর্ণ কাজগুলো একই রকম চরম পরিস্থিতি তুলে ধরে।
প্রথম ছবিতে গেরার্ড বাটলার ‘জন গ্যারিটি’ চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি একজন কাঠামোগত প্রকৌশলী এবং তার পরিবারকে আটলান্টা থেকে গ্রিনল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম অ্যালিসন, যাকে মোরেনা ব্যাকারিন অভিনয় করেছেন, এবং তাদের পুত্র নাথানকে ছবিতে দেখানো হয়েছে। চলচ্চিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে জরুরি শেল্টার ব্যবহার করার অনুমতি দেয়, আর গ্যারিটির পেশাগত দক্ষতা তাকে এই সুবিধা পেতে সাহায্য করে।
যারা শেল্টার পেতে পারেনি, তারা DHS দ্বারা নির্ধারিত প্রবেশ ব্যাজ চুরি করার চেষ্টা করে এবং ব্যক্তিগত বিমান ভাড়া করে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এই দৃশ্যগুলো বাস্তব জীবনের সরবরাহ সংগ্রহের জন্য লড়াই করা মানুষের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে মানুষজন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেতে বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে।
‘গ্রিনল্যান্ড’ প্রথমে ব্যাপক থিয়েটার রিলিজের পরিকল্পনা ছিল, তবে কোভিড‑১৯ মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্ট্যাক্সফিল্মস কোম্পানি বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ছবিটি ডিসেম্বর ২০২০-এ ভিডিও‑অন‑ডিমান্ড (VOD) মাধ্যমে মুক্তি পায় এবং পরে HBO ও HBO Max-এ ৩০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই ডিজিটাল প্রকাশের ফলে দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, যা পরবর্তী সিক্যুয়েলকে বড় স্ক্রিনে দেখার সুযোগ দেয়।
‘গ্রিনল্যান্ড ২: মাইগ্রেশন’ এর বাজেট প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার, যা মূল ছবির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই উচ্চ বাজেটের পিছনে স্ট্যাক্সফিল্মসের প্রাক্তন নির্বাহী এবং বর্তমানে লায়ন্সগেট মুভি গ্রুপের চেয়ারম্যান আদাম ফোগেলসনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তিনি মহামারিকালে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ছবির প্রকাশকে সমর্থন করেন, যা শেষ পর্যন্ত সিক্যুয়েলের থিয়েটার রিলিজের ভিত্তি তৈরি করে।
ওয়গ এই পরিবর্তনকে নিজের জন্য একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ফোগেলসনের নেতৃত্বকে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মহামারির সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো সত্ত্বেও তিনি এবং তার দল প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কিভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়, তা শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
‘গ্রিনল্যান্ড ২: মাইগ্রেশন’ এর গল্পে মানবজাতির বেঁচে থাকার সংগ্রাম, পরিবারিক বন্ধন এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে মানবিক মূল্যবোধের পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত। চলচ্চিত্রটি দর্শকদেরকে কল্পনাপ্রসূত দুর্যোগের সঙ্গে বাস্তব জীবনের অনুরূপ চ্যালেঞ্জের তুলনা করার সুযোগ দেয়।
প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে, এবং এটি বিশ্বব্যাপী বহু থিয়েটারে একসাথে প্রদর্শিত হবে। ছবির প্রচারাভিযানটি সামাজিক মিডিয়া ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চালু করা হয়েছে, যাতে তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করা যায়।
এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রিক রোমান ওয়গের কাজের ধারাবাহিকতা এবং মহামারিকালে শিল্পের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় স্কেলের প্রকল্পে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা দর্শকদেরকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মানবিক দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করবে।
চলচ্চিত্রের থিম এবং বাস্তব জগতের সমান্তরালকে বিবেচনা করে, দর্শকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয় যে, জরুরি পরিস্থিতিতে সমবায় ও সহানুভূতি বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, বিনোদন শিল্পের পরিবর্তনশীল পরিবেশে নতুন প্রযুক্তি ও বিতরণ পদ্ধতি গ্রহণের গুরুত্বও উপলব্ধি করা উচিত।



