ইন্ডিয়ান উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ রাউন্ডের উদ্বোধনী ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, পূর্ব চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে ১৫৫ রান লক্ষ্য করে পিছু হটিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করে। টার্গেটটি ১৮ রান বাকি থাকায় এবং হাতে মাত্র তিনটি উইকেট থাকায় পরিস্থিতি কঠিন ছিল, তবে অলরাউন্ডার ন্যাডিন ডি ক্লার্কের শেষ ওভারের আক্রমণ দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যায়।
মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রথম ইনিংসে ১৫৫ রান তৈরি করে, যা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের জন্য চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য। বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং লাইন‑আপের মধ্যে স্মৃতি মান্ধানা, রিচা ঘোষ এবং রাধা ইয়াদাভের পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছাতে পারেনি, ফলে স্কোর ৬৩ রানে আটকে যায়। তখন ডি ক্লার্ক ছয় নম্বরে প্রবেশ করে, তার উপস্থিতি দলকে নতুন দিক দেয়।
ডি ক্লার্কের বোলিং পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল; তিনি চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন, যা মুম্বাইয়ের শীর্ষ পেসারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তার বোলিং দক্ষতা এবং ব্যাটিং ক্ষমতার সমন্বয়ই তাকে টি‑টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্সের দিকে নিয়ে যায়।
বেঙ্গালুরুর শেষ ওভারটি ৪৩ রান নিয়ে ডি ক্লার্কের স্ট্রাইকে শুরু হয়। প্রথম দুই ডেলিভারিতে তিনি কোনো রান না করে ডট বলের মাধ্যমে শ্বাস নেয়। তৃতীয় বলেই তিনি লং‑অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন, যা টার্গেটকে ১২ রানে কমিয়ে দেয়। চতুর্থ বলের ধীর ডেলিভারিতে তিনি ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ শট দিয়ে চারটি রান সংগ্রহ করেন, ফলে চাহিদা ৮ রানে নেমে আসে। পঞ্চম ডেলিভারিতে আবারও ধীর গতি ব্যবহার করে তিনি মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন, স্কোরকে ৪ রানে কমিয়ে দেন।
শেষ বলের জন্য ২ রান বাকি থাকায়, সিভার‑ব্রান্ট পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ডেলিভারি দেন। ডি ক্লার্কের শক্তিশালী হিটের ফলে বলটি বোলারের মাথার ওপর দিয়ে উঠে সীমানার বাইরে চলে যায়, ফলে চারটি রান যোগ হয় এবং বেঙ্গালুরু লক্ষ্য অতিক্রম করে। শেষ মুহূর্তে ডি ক্লার্কের উঁচু ব্যাটে ছুটে যাওয়া দৃশ্যটি দলের সাথী প্রেমা রাওয়াতের আলিঙ্গনে পরিণত হয়, যা স্টেডিয়ামের উল্লাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
ডি ক্লার্কের শেষ ইনিংস ৪৪ বলে ৭টি চার এবং ২টি ছক্কা নিয়ে ৬৩ রান তৈরি করে, যা তার ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় দিকের সেরা পারফরম্যান্সের উদাহরণ। তার এই অবদানই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে ২ উইকেটের পার্থক্যে লক্ষ্য অতিক্রম করতে সাহায্য করে। দলটি ১৫৫ রান লক্ষ্যকে ২ রান বাকি রেখে জয়লাভ করে, যা তাদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের যাত্রায় ইতিবাচক সূচনা দেয়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় যে ডি ক্লার্কের ৪ ওভারে ২৬ রান ও ৪ উইকেটের বোলিং পারফরম্যান্স এবং ৪৪ বলে ৬৩ রান, ৭টি চার, ২টি ছক্কা নিয়ে ব্যাটিং পারফরম্যান্স উভয়ই টি‑টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের শীর্ষে। তার এই দ্বৈত দক্ষতা দলের জন্য অমূল্য প্রমাণিত হয়েছে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের কোচ টিমের মন্তব্যে ডি ক্লার্কের এই পারফরম্যান্সকে “দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাওয়া মূল চালিকাশক্তি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী ম্যাচে দলটি আবারও মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের মুখোমুখি হবে, যেখানে ডি ক্লার্কের ধারাবাহিকতা এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর দৃষ্টি থাকবে।
এই জয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তাদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আত্মবিশ্বাস যোগায়। ডি ক্লার্কের শেষ ওভারের আক্রমণ এবং তার সামগ্রিক পারফরম্যান্স দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সংকেত দেয়।



