নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি গত মাসে কারাবন্দি সমাজকর্মী উমর খালিদকে সমর্থন জানিয়ে হাতে লেখা চিঠি প্রদান করেন। চিঠিটি উমরের পরিবারকে হস্তান্তর করা হয় এবং এতে তার মানবাধিকার রক্ষার প্রতি সম্মান প্রকাশ করা হয়েছে। এই ঘটনা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
উমর খালিদ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গা ঘটনার পর থেকে জেলবন্দি। তিনি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তার মামলা বর্তমানে বিচার বিভাগের পর্যায়ে রয়েছে। পাঁচ বছর ধরে কারাবন্দিতে থাকা খালিদকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মুক্তি দাবি করে আসছে।
মামদানি ৯ ডিসেম্বর উমরের বাবা সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াসের সঙ্গে প্রায় পঁচিশ মিনিটের কথোপকথন করেন। কথোপকথনের সময় তিনি উমরের কারাবন্দি অবস্থার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তার পূর্বের মন্তব্যে তিক্ততাকে ত্যাগ করার প্রশংসা করেন। এরপর তিনি উমরের পরিবারকে হাতে লেখা চিঠি দেন, যেখানে উমরের মুক্তি ও ন্যায়বিচার কামনা করা হয়েছে।
চিঠিটি প্রকাশের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত মন্তব্য করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিদেশি প্রতিনিধিদের অন্য দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত এবং রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি পদে থেকে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করা উপযুক্ত নয়।
মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করে নিজের দায়িত্বের ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই রকম মন্তব্যকে ভারতীয় সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং তা রাজনৈতিক পক্ষপাতের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
মামদানির এই সমর্থনমূলক পদক্ষেপের ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতারা মানবাধিকার বিষয়ক প্রশ্নে প্রায়শই সক্রিয় থাকেন, আর ভারতের সরকার এই ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপকে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপে এই বিষয়টি আলোচনার বিষয় হতে পারে।
ইতিমধ্যে ভারতীয় কূটনীতিকরা নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে এই ঘটনার বিষয়ে নোটিশ পাঠানোর সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বশীল সংস্থা এই ধরনের মানবাধিকার সমর্থনকে আন্তর্জাতিক নীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধ না বাড়িয়ে বিষয়টি সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
উমরের পরিবার মামদানির চিঠি ও সমর্থনকে উষ্ণ স্বাগত জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সমর্থন উমরের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তার মুক্তির জন্য নতুন আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। পরিবারে এই সমর্থনকে রাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে একটি সান্ত্বনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধিকন্তু, উমরের পূর্বের প্রকাশ্য মন্তব্যে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় তিক্ততাকে ত্যাগ করার কথা বলেছিলেন, যা মামদানি চিঠিতে প্রশংসা করেছেন। এই বিষয়টি উমরের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের অভ্যন্তরে এই ঘটনার প্রতি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মামদানির কাজকে ভারতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যরা এটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে স্বীকার করছেন। এই বিতর্ক দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পরবর্তী সময়ে উমরের মামলা কীভাবে অগ্রসর হবে তা এখনও অনিশ্চিত। বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তার মুক্তি বা দণ্ডের সিদ্ধান্ত আদালতের হাতে থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মামলায় অতিরিক্ত নজরদারি ও চাপ বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি উমর খালিদকে চিঠি দিয়ে সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন, আর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে বিচারিক স্বাধীনতার প্রতি হস্তক্ষেপ হিসেবে নিন্দা করেছে। দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিতে এই ঘটনা কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।



