লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত CES ২০২৬-এ কম্পিউটার শিল্পের সামনে কঠিন বছর আসার সংকেত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই বছরের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হল র্যাম মূল্যের তীব্র বৃদ্ধি, সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহের ঘাটতি এবং AI সুপারকম্পিউটারের জন্য মেমোরি চাহিদার অপ্রত্যাশিত উত্থান। ফলে ভোক্তাদের জন্য পণ্য মূল্যে বৃদ্ধি এবং প্রাপ্যতায় সীমাবদ্ধতা দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
র্যাম দামের উত্থান মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ডেটা সেন্টারগুলোর চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ঘটেছে। গত কয়েক মাসে AI মডেল প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্সের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে, যা সরবরাহ চেইনে চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত থাকায় দাম আরও তীব্র হয়েছে।
সামসাংয়ের মার্কেটিং প্রধানের মতে, সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহে সমস্যার ফলে দাম ক্রমাগত বাড়বে এবং এই প্রবণতা সব ধরণের ইলেকট্রনিক পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান দামের বৃদ্ধি এখনও শেষ হয়নি এবং ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।
ডেল কোম্পানির নতুন XPS ১৪ এবং XPS ১৬ মডেলগুলো এই বাজারের চাপের সরাসরি প্রভাব দেখাচ্ছে। গত বছর এই মডেলগুলোর প্রারম্ভিক দাম যথাক্রমে $১,৬৯৯ এবং $১,৮৯৯ ছিল, এবং নতুন মডেলগুলোকে সামান্য কম দামে $১,৬৫০ এবং $১,৮৫০-এ প্রকাশ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে দাম পুনর্বিবেচনা করে XPS ১৪-কে $২,০৫০ এবং XPS ১৬-কে $২,২০০-এ নির্ধারিত করা হয়েছে।
এই দাম বৃদ্ধি এমনকি এন্ট্রি-লেভেল পিসি বাজারকে প্রভাবিত করেছে, যেখানে পূর্বে $২,০০০-এর নিচে পাওয়া যেত। একই সময়ে অ্যাপল তার ১৪-ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোকে $১,৫৯৯ মূল্যে বজায় রেখেছে, তবে ১৬-ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো এখনও $২,৪৯৯ দামে বিক্রি হচ্ছে। ডেলের নতুন মডেলগুলো এখনও অ্যাপলের উচ্চমূল্যের ১৬-ইঞ্চি সংস্করণের চেয়ে সস্তা, তবে দাম বৃদ্ধির ফলে ভোক্তাদের পছন্দের পরিসরে পরিবর্তন আসতে পারে।
AMD কোম্পানির AM4 এবং AM5 প্ল্যাটফর্মের দীর্ঘায়ু গেমার ও পিসি নির্মাতাদের জন্য একটি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীকে নতুন র্যাম কিট বা মাদারবোর্ড না বদলে শুধুমাত্র CPU আপগ্রেডের মাধ্যমে পারফরম্যান্স বাড়ানোর সুযোগ দেয়। ফলে র্যাম দামের উত্থান সত্ত্বেও কিছু ব্যবহারকারী কম খরচে সিস্টেম উন্নয়ন করতে পারবে।
AMD-র কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্লায়েন্ট চ্যানেল বিজনেসের জিএমের মতে, ২০২৬ সালে কম্পোনেন্ট আপগ্রেডের প্রবণতা বাড়বে, যেখানে পুরো সিস্টেম বদলানোর বদলে নির্দিষ্ট অংশের পরিবর্তন বেশি হবে। এই প্রবণতা র্যাম ও মাদারবোর্ডের উচ্চমূল্যের কারণে উদ্ভূত, এবং ব্যবহারকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
একই সময়ে NVIDIA এবং AMD উভয়ই AI সুপারকম্পিউটার বাজারে নতুন মডেল প্রকাশ করেছে, যা প্রচুর পরিমাণে র্যাম ব্যবহার করে। এই সুপারকম্পিউটারগুলো ডেটা সেন্টারগুলোর AI প্রশিক্ষণ ও বিশ্লেষণ কাজকে ত্বরান্বিত করে, তবে মেমোরি চাহিদা বাড়িয়ে র্যাম বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে সাধারণ ভোক্তা পিসি ও ল্যাপটপের জন্য র্যাম সরবরাহ কমে যায় এবং দাম আরও বাড়ে।
এই সব কারণ মিলিয়ে ২০২৬ সালে পিসি ও ল্যাপটপের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে দাম $২,০০০ অতিক্রম করতে পারে, যা পূর্বে কেবল হাই-এন্ড গেমারদের জন্যই সীমিত ছিল। পাশাপাশি সরবরাহের ঘাটতি ফলে কিছু মডেল বাজারে কম পাওয়া যাবে, যা ভোক্তাদের ক্রয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
ভবিষ্যতে র্যাম সরবরাহের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং AI চাহিদা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানো জরুরি হবে। তবে স্বল্পমেয়াদে দাম ও প্রাপ্যতার সমস্যাই প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে, এবং ব্যবহারকারীরা কম্পোনেন্ট আপগ্রেডের দিকে ঝুঁকবে। এই প্রবণতা পিসি শিল্পের গঠনমূলক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদে মডুলার আপগ্রেডের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।



