28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়াল বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা-প্রতিহিংসা হিসেবে উল্লেখের...

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়াল বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা-প্রতিহিংসা হিসেবে উল্লেখের অভিযোগ করেন

নয়াদিল্লির ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সোয়াল বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিহিংসা এবং রাজনৈতিক মতভিন্নতা ইত্যাদি অপ্রাসঙ্গিক কারণের সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা কেবল অপরাধীদের উত্সাহ বাড়ায় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়।

ব্রিফিংয়ের সময় জয়সোয়াল উল্লেখ করেন, সাম্প্রদায়িক হিংসা পুনরাবৃত্তি হয়ে চলেছে এবং চরমপন্থীরা সংখ্যালঘুদের বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ঘটনাগুলোর মোকাবিলা দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে করা প্রয়োজন, যাতে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

মন্তব্যের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ঘটমান সাম্প্রদায়িক ঘটনার বিশ্লেষণকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক মতভিন্নতা এবং অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক কারণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এই ব্যাখ্যা কেবল চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাজকে স্বীকৃতি দেয় এবং অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সমর্থন বাড়ায়, এ কথায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ব্রিফিংয়ে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে জয়সোয়াল পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভারত নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয়ের ওপর নিবিড় নজর রাখছে। তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ইসলামাবাদে পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশি তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের (আইএসপিআর) মতে, এই বিষয়টি এখনো পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

জয়সোয়ালের মন্তব্যের পটভূমিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রদায়িক হিংসা মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তা উভয় দেশের সামাজিক সাদৃশ্যের জন্য হুমকি তৈরি করবে।

এই বিবৃতি অনুসারে, ভারতীয় সরকার বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণকে কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করে না, বরং তা চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাজ হিসেবে গণ্য করে। জয়সোয়াল আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা অপরাধীদের জন্য সমর্থনমূলক পরিবেশ তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে আরও হিংসা ঘটার সম্ভাবনা বাড়ায়।

দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার দিক থেকে, জয়সোয়াল জানান, ভারত নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল বিষয়ের ওপর সতর্ক দৃষ্টিপাত করছে, যার মধ্যে পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত। যদিও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জেএফ-১৭ ক্রয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে তা এখনো পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, জয়সোয়ালের এই মন্তব্য ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে। তবে বর্তমান পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিকভাবে, রণধীর জয়সোয়ালের বক্তব্যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা-প্রতিহিংসা হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা, চরমপন্থী আক্রমণের দ্রুত মোকাবিলার আহ্বান এবং পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনার ওপর সতর্ক দৃষ্টিপাত অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়গুলো ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments