বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি ৯:৩০ টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তরিক রাহমানকে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্ধারণ করেছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হয়ে যাওয়া চেয়ারপার্সন পদটি এখন নতুনভাবে পূরণ হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পার্টির অফিসিয়াল পেজে প্রকাশের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
খালেদা জিয়া, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ছিলেন, তার অকাল মৃত্যুর পর পার্টির শীর্ষস্থানে শূন্যতা দেখা দেয়। তার মৃত্যুর পরপরই পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে তরিক রাহমানকে চেয়ারম্যানের পদে নামানো হয়।
বৈঠকের সময় তরিক রাহমানের প্রতি একমত ভোটের মাধ্যমে এই পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। পার্টির সংবিধান অনুসারে, চেয়ারম্যানের পদে যাকে নিয়োগ করা হয়, তাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তরিক রাহমান ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার জেলখানার পর পার্টির কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য কার্যকরী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির এই সিদ্ধান্তের পর পার্টির অফিসিয়াল পেজে একটি সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, যেখানে তরিক রাহমানকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং পার্টির সংবিধানিক বিধান অনুসারে পদ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে। তারা পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠন ও নেতৃত্বের পরিবর্তনকে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছে। তবে এখনো কোনো সরকারী মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে তরিক রাহমানের চেয়ারম্যানিত্বে বিএনপি তার কৌশলগত দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনী চক্রে নতুন শক্তি সংগ্রহের চেষ্টা করবে। তবে পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংগঠনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করা কতটা সম্ভব, তা সময়ই বলবে।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে তরিক রাহমানের নেতৃত্বে পার্টি কীভাবে তার নীতি ও কর্মসূচি পুনর্নির্ধারণ করবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি এখন নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে গঠন করা হবে।
বিএনপি এখন নতুন চেয়ারম্যানের অধীনে তার সংগঠনগত কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করেছে। পার্টির উচ্চপদস্থ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি নির্ধারণ এবং নির্বাচনী কৌশল গড়ে তোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তরিক রাহমানের চেয়ারম্যানিত্বের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি পার্টির মূল নীতি ও আদর্শকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার কথা উল্লেখ করেছেন। এই ঘোষণার পর পার্টির সদস্য ও সমর্থকরা নতুন নেতৃত্বের প্রতি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে।
পরবর্তী সময়ে পার্টি কীভাবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে কী ভূমিকা পালন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক উভয়েরই মনোযোগের বিষয় হয়ে থাকবে।



