18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন কমিশন আপিল শুনানিকালে তিনজনের বেশি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানিকালে তিনজনের বেশি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আপিল শুনানির সময় অতিরিক্ত ব্যক্তির প্রবেশ সীমিত করার নির্দেশনা নির্বাচন কমিশন (ইসি) জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রতিটি আপিলের ক্ষেত্রে আবেদনকারীসহ সর্বোচ্চ তিনজনের বেশি ব্যক্তি শুনানি কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। নির্দেশনাটি শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব (আইন‑২) মো. আরিফুর রহমানের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়। লক্ষ্য হল শুনানি প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা।

ইসির প্রকাশিত চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত উপস্থিতি শোনানির গতি ও শৃঙ্খলায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা গ্রহণের পেছনে মূল কারণ হল আপিলের বিষয়বস্তু দ্রুত ও নির্ভুলভাবে বিবেচনা করা, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক সময়সূচি প্রভাবিত না হয়।

শুনানি কার্যক্রমের সূচনা শনিবার, ১০ জানুয়ারি, সকাল দশটায় নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম দিন থেকে শোনানি ধারাবাহিকভাবে চলবে এবং মোট নয় দিন, অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সব শুনানি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যা নির্বাচনী কাজের কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।

প্রতিদিনের শোনানি সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলবে, ফলে আবেদনকারীদের জন্য যথেষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সময়সূচি অনুসারে, শোনানির সময়সূচি যথাযথভাবে ভাগ করা হয়েছে যাতে প্রতিটি আপিলের যথাযথ মনোযোগ পাওয়া যায়।

প্রথম শোনানি দিনে ১ থেকে ৭০ নম্বর পর্যন্ত আপিলের বিষয়বস্তু বিবেচনা করা হবে। এরপর রোববার, ১১ জানুয়ারি, ৭১ থেকে ১৪০ নম্বরের আপিল শোনানো হবে। সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ১৪১ থেকে ২১০ নম্বরের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হবে, আর মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২১১ থেকে ২৮০ নম্বরের আপিল শোনানো হবে। বাকি আপিলের সময়সূচি শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬৪৫টি আপিল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাখিল করা হয়েছে। এই আপিলগুলো ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়। প্রথম দিনে ৪১টি আবেদন জমা পড়ে, যা শোনানির সূচনা পূর্বে সবচেয়ে কম সংখ্যা।

দ্বিতীয় দিনে আবেদন সংখ্যা ১২২টি বৃদ্ধি পায়, যা প্রথম দিনের তুলনায় তিনগুণের বেশি। তৃতীয় দিনে ১৩১টি আপিল জমা হয়, আর চতুর্থ দিনে সর্বোচ্চ ১৭৪টি আবেদন পাওয়া যায়। শেষ দিনে, অর্থাৎ পঞ্চম দিনে, সর্বোচ্চ ১৭৬টি আপিল দাখিল করা হয়।

এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখায় যে, ভোটার ও প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি সক্রিয়ভাবে আপিল দায়ের করছে। ইসির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সব আবেদন যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং শোনানি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।

শুনানির সময়সূচি ও প্রবেশ সীমাবদ্ধতা উভয়ই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। সীমিত উপস্থিতি শোনানির গতি বাড়াবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা রোধ করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অবশিষ্ট আপিলের সময়সূচি শীঘ্রই জানানো হবে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবে। ইসির এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণের পূর্বে সকল আপিলের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য বহন করে।

নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নিয়মাবলী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপিলের দ্রুত সমাধান নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং, শোনানির সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments