চেলসি ফুটবল ক্লাবের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ৪১ বছর বয়সী লিয়াম রোজেনিয়র শনিবারের প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি স্ট্রাসবুর্গে সফল সময়কালের পর, একই মালিকানাধীন ব্লু কো-র অধীনে চেলসির দায়িত্বে আসছেন। পূর্বের প্রধান কোচ এনজো মারেসকা ১ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন, যদিও তার প্রথম মৌসুমে ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ এবং ইউরোপা কনফারেন্স লিগ জয়লাভের মতো দুইটি ট্রফি জিতেছিলেন।
চেলসি বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র একটি জয় অর্জন করেছে, গত নয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একবারই জয়লাভ করতে পেরেছে এবং টেবিলে অষ্টম স্থানে রয়েছে। রোজেনিয়রের সামনে প্রধান লক্ষ্য হল পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা নিশ্চিত করা, যার জন্য ক্লাবকে শীর্ষ চারের মধ্যে শেষ করতে হবে।
রোজেনিয়র দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে বলেছিলেন, “গত কয়েক দিনের খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও ক্ষমতা বিশ্বমানের।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “পূর্বের কোচ এনজো কৌশলগত দিক থেকে ভালো কাজ করেছেন, আর আমার কাজ হল সেটিকে আরও এক ধাপ উপরে নিয়ে যাওয়া।” নতুন কোচ দলকে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে এবং সফলতা অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করবেন।
সোমবারের ফালহাম ম্যাচে রোজেনিয়র স্টেডিয়ামের সিট থেকে দলকে ২-১ হারে দেখতে পান। ম্যাচের সময় ভিজিটিং ভক্তদের মধ্যে ব্লু কো-র পরিচালনা নিয়ে ব্যানার ও চিৎকার শোনা যায়। এই পরাজয় চেলসির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের একটি উদাহরণ, যেখানে দল ধারাবাহিকভাবে ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।
মারেসকা ছেড়ে যাওয়ার পর চেলসিতে তিন বছর অর্ধেকের মধ্যে চতুর্থ স্থায়ী কোচ পদত্যাগ করেছেন, যা ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের সূচক। রোজেনিয়র এই ধারাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন এবং বলেন, “এই কাজের মধ্যে নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন ছাড়া কোচ হওয়া সম্ভব নয়।” তিনি মিডিয়ায় প্রচারিত মতামতকে অস্বীকার করে জানান, “আমি কোনো বিদেশি নই, তবে আমি জানি প্রেসে কী বলা হচ্ছে, তবু আমি নিজের সিদ্ধান্তে কাজ করব।”
স্ট্রাসবুর্গে তিনি যে সফলতা অর্জন করেছেন, তা চেলসিতে পুনরায় প্রয়োগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রোজেনিয়র বলেন, “স্ট্রাসবুর্গে আমরা বড় সাফল্য পেয়েছি, এবং আমি এখানে একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে চাই।” তিনি এবং তার সহকর্মীরা দলকে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরিকল্পনা দিয়ে প্রস্তুত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চেলসির পরবর্তী ম্যাচে দলটি দ্বিতীয় স্তরের চার্লটনকে মুখোমুখি হবে, যেখানে রোজেনিয়র তার নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন। এই ম্যাচটি কোচের প্রথম অফিসিয়াল দায়িত্বের সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হবে, এবং ফলাফল নির্ধারণ করবে তিনি কতটা দ্রুত দলকে তার লক্ষ্যমুখী পথে নিয়ে যেতে পারবেন।
ব্লু কো-র অধীনে চেলসির ভবিষ্যৎ এখন রোজেনিয়রের নেতৃত্বে নির্ভরশীল, যেখানে তিনি দলকে বিশ্বমানের প্রতিভা দিয়ে গড়ে তোলার এবং শীর্ষ চারের মধ্যে ফিরে আসার লক্ষ্যে কাজ করবেন। তার কঠোর পরিশ্রম ও স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের মনোভাব দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সহায়তা করবে কিনা, তা সময়ই বলবে।



