বিএনপি দলটি খালেদা জিয়ার অকাল মৃত্যুর পর শূন্য হয়ে যাওয়া চেয়ারপার্সন পদে তরিক রহমানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্বে নিয়োগ করেছে। দলীয় সংবিধান অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অস্থায়ীভাবে প্রদান করা হয়। তবে তরিক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারপার্সন ঘোষণার প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পদ্ধতি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, যা দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
দলীয় উচ্চপদস্থ নেতারা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি তৎক্ষণাৎ প্রকাশ না করার কথা উল্লেখ করেছেন। বাস্তবে, তরিক রহমানকে কেন্দ্র করে সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী কৌশল এবং দিকনির্দেশনা গঠন করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করা হলেও, দলের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে তার নেতৃত্বে পরিকল্পনা চালু রয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রের তিন দিনের শোকের পর, বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি চালু করেছে, যা ৫ জানুয়ারি শেষ হবে। শোকের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার স্মরণে প্রার্থনা ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শোকের পরিবেশে দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী শোকের গভীরতা এবং নির্বাচনী কাজে উদ্দীপনার অভাবের কথা উল্লেখ করে, তবু সীমিত পরিসরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শোকের সময়েও দলটি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, শোক কর্মসূচি সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে। অনেক নেতা ও কর্মীর মতে, শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও খালেদা জিয়া এই নির্বাচনী প্রচারের আবেগিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়ে যাবে। তার শেষ সমাহার ও আন্তর্জাতিক সম্মানকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার কৌশলই দলের মূল লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী আসনে প্রার্থীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামানো, স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা, জনসভা, উঠান বৈঠক এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একটি উচ্চপদস্থ নেতা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, উল্লেখ করেছেন, “খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে নেই, তবে তার আদর্শ, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব এখনও বিএনপির রাজনীতিতে জীবন্ত থাকবে”।
নির্বাচনী কৌশল বাস্তবায়নের জন্য ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রার্থী ব্যবস্থাপনা, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং নির্বাচনী প্রচার পরিকল্পনা তদারকি করবে। কমিটির কাজের মধ্যে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা, নির্বাচনী এলাকার বিশ্লেষণ এবং ভোটার সংযোগের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত।
বিএনপি এখন শোকের আবহে থেকে ধীরে ধীরে নির্বাচনী মঞ্চে ফিরে আসছে। তরিক রহমানের নেতৃত্বে দলটি কৌশলগতভাবে শোকের সময়কালে গৃহীত সমর্থনকে ভোটে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে। শোকের শেষের সঙ্গে সঙ্গে, দলটি জনমত সংগ্রহ, স্থানীয় সংগঠন শক্তিশালীকরণ এবং মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে মনোযোগ দেবে।
সংক্ষেপে, তরিক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারপার্সন দায়িত্ব গ্রহণের পর, দলের অভ্যন্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। শোকের শেষের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী অভিযান শুরু হবে, যেখানে খালেদা জিয়ার আদর্শকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য থাকবে।



