চীনা-আমেরিকান অভিনেত্রী ও পরিচালক জোয়ান চেন একটি নতুন স্বাধীন চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে রূপান্তরিত হচ্ছেন। এই চলচ্চিত্রের শিরোনাম “Montréal, ma belle” এবং এটি লেখক-নির্দেশক শিয়াওদান হে’র রচনায় ভিত্তিক। চেনের চরিত্রটি ৫৩ বছর বয়সী চীনা মা, যিনি পরিবারকে কানাডার মন্ট্রিয়ালে স্থানান্তর করেন।
মন্ট্রিয়ালের গ্রীষ্মকালে, তার চরিত্র ফেং শিয়া একটি ডেটিং সাইটের মাধ্যমে ক্যামিল (চার্লট অউবিন) নামের কুইবেকের তরুণীকে জানে। ক্যামিলের সঙ্গে পরিচয় তার মধ্যে অতীতের দমিত যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে, যা তার পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিণত হয়।
চেন এই ভূমিকায় ফরাসি ভাষা শিখে অভিনয় করেছেন, কারণ চরিত্রটি ফরাসি-ভাষী পরিবেশে বসবাস করে। গল্পের মূল দিকটি হল শিয়ারকে তার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের সৎতা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় এবং ক্যামিলের সঙ্গে বন্ধুত্ব নাকি প্রেমের সীমা নির্ধারণ করতে হয়।
ট্রেইলারে দেখা যায়, শিয়া তার মেয়ের সঙ্গে জীবনের অনিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচারহীনতার কথা ভাগ করে নেয়। অন্যদিকে ক্যামিল শিয়াকে তার ভয় ও আত্মসচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক করে, যা শিয়ার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে তীব্র করে।
চেনের এই চরিত্রটি তার পূর্বের কাজের তুলনায় ভিন্ন রঙের, যেখানে তিনি পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এই দ্বন্দ্বটি চলচ্চিত্রের মূল থিম হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
জোয়ান চেনের ক্যারিয়ার ১৯৭০-এর দশকে চীনে শৈশবের তারকা হিসেবে শুরু হয়। ১৯৮৭ সালে তিনি বর্ণোলো বের্তোলুচ্চির “দ্য লাস্ট এম্পারর” ছবিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয়ে হলিউডে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
হলিউডে তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেভিড লিঞ্চের টেলিভিশন সিরিজ “টুইন পিকস” এবং অলিভার স্টোনের “হেভেন অ্যান্ড আর্থ”। এই কাজগুলোতে তিনি বহুমুখী অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
অভিনেত্রী হিসেবে তার পাশাপাশি, চেন পরিচালক হিসেবেও সফলতা অর্জন করেছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি “শিউ শিউ: দ্য সেন্ট ডাউন গার্ল” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমালোচনামূলক প্রশংসা পেয়েছেন, যা চীনের সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
সম্প্রতি তিনি শ্যান ওয়াং পরিচালিত “ডিডি” চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আবার নজরে এসেছেন। এই চলচ্চিত্রটি একটি যুবক চরিত্রের জীবনের উত্থান-পতনকে চিত্রিত করে এবং চেনের পারফরম্যান্সকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসা করা হয়েছে।
“Montréal, ma belle” চলচ্চিত্রটি একটি স্বাধীন প্রকল্প, যেখানে চেনের চরিত্রের যাত্রা এবং তার অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রের টিমের লক্ষ্য হল আধুনিক সমাজে লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের জটিলতা তুলে ধরা।
চেনের এই নতুন ভূমিকা তার ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে তিনি একটি সমকামী চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করছেন, যা তার পূর্বের কাজের তুলনায় ভিন্ন এবং সাহসিকতা পূর্ণ। এই পদক্ষেপটি চলচ্চিত্র শিল্পে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির দিকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রের ট্রেইলার ইতিমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। ট্রেইলারে দেখা যায়, শিয়া এবং ক্যামিলের সম্পর্কের সূক্ষ্মতা এবং তাদের মধ্যে উদ্ভূত আবেগের জটিলতা সুন্দরভাবে চিত্রিত হয়েছে।
চেনের এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন যে তিনি বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম এবং তার অভিনয় দক্ষতা নতুন দিক উন্মোচন করে। “Montréal, ma belle” চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা চেনের আন্তর্জাতিক সুনামকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।



