28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধহাই কোর্ট মাজারে ওরশে পুলিশ প্রবেশ নিষেধের অভিযোগ ও নিরাপত্তা ব্যাখ্যা

হাই কোর্ট মাজারে ওরশে পুলিশ প্রবেশ নিষেধের অভিযোগ ও নিরাপত্তা ব্যাখ্যা

ঢাকা শহরের হাই কোর্টের সংলগ্ন শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতীর মাজারে শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওরশের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে কিছু ভক্ত ও অনুসারীকে মাজারের মূল অংশে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে পুলিশ বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা পুলিশ দল এই পদক্ষেপ নেয় বলে জানায়।

ওরশের প্রথম দিন বিকেলে ধর্মীয় বিতরণ এবং সঙ্গীতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত, পাগল এবং অনুসারীরা সন্ধ্যাবেলা মাজারের প্রাঙ্গণে জমায়েত হন। ঐতিহ্যবাহী রীতিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করার পরিকল্পনা করেও কিছু অংশগ্রহণকারীকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয়।

পুলিশের মতে, দিনের বেলা ওরশের মূল কার্যক্রম শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সন্ধ্যায় মাজারের অভ্যন্তরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ভক্তরা দাবি করেন, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও তারা রীতি অনুযায়ী মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রস্থান করতে চেয়েছিল, তা অনুমোদিত হয়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ আলম জানান, “দুপুরে তবর বিতরণ করা হয় এবং সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শেষ করার পরিকল্পনা ছিল, তবে কিছু অংশগ্রহণকারী এখনও সেখানে থেকে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলা হচ্ছে।

শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতীর মাজারে ওরশের সময় সাধারণত ধর্মীয় সঙ্গীত, নৃত্য এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অতীতের বছরগুলোতে তিন দিনব্যাপী রাত-দিনের অনুষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত।

মাসুদ আলম আরও স্পষ্ট করেন, হাই কোর্টের বিচারপতি মহোদয়রা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশ জারি করেছেন, যাতে সন্ধ্যাবেলা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ব্যক্তি মাজারে প্রবেশ না করতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায়, নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা পুলিশ এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছে।

রাত সাড়ে আটটায় শাহবাগ থানা থেকে ওসিরা মনিরুজ্জামান জানান, “ওরশের কার্যক্রম কোনো সমস্যাবিহীনভাবে শেষ হয়েছে, তবে কিছু পাগল ও ভিক্ষুক এখনও মাজারে রয়ে গেছেন।” তিনি যোগ করেন, কিছু সময় আগে ফোনে জানানো হয় যে খাবার না পাওয়ায় কিছু লোক চিৎকার করছে, এবং পুলিশ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

স্থানীয় স্থাপত্য গবেষক ও সাংবাদিক তরুণ সরকার উল্লেখ করেন, “শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতি মাজারে সমাহিত আছেন, যাকে অনেকেই মোঘল সম্রাট আকবরের সময় ইসলাম প্রচারের জন্য ঢাকায় আসার সঙ্গে যুক্ত করে স্মরণ করেন।” তিনি ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে বলেন, এই ধরনের ধর্মীয় সমাবেশের সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।

পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভক্তদের প্রবেশের অধিকার নিয়ে মতবিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপত্তা ও জনসাধারণের স্বার্থের সমন্বয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নির্দেশনা জারি করা হতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments