28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের বিশাল প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ত্রাম্পের রাজনৈতিক সতর্কতা বাড়ছে

ইরানের বিশাল প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ত্রাম্পের রাজনৈতিক সতর্কতা বাড়ছে

তেহরানে দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া বিরোধী-সরকারি প্রতিবাদে ১৬ মিলিয়ন বাসিন্দা বিশিষ্ট মেট্রো এলাকার বহু জেলা জুড়ে বিশাল জনসমাবেশ দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ সীমিত থাকলেও, প্রতিবাদকারীরা সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির মুখে ত্রাম্পের সতর্কতা শোনাচ্ছে।

এই প্রতিবাদগুলোকে দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে; তেহরানের কেন্দ্রীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সশস্ত্র নিরাপত্তা গোষ্ঠীর মুখোমুখি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন অংশে ভিড়ের আকার ভিন্ন হলেও, সমগ্র মেট্রো অঞ্চলে প্রতিবাদ একত্রে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতের কয়েক ঘণ্টা ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ তুলনামূলকভাবে সংযত ছিল। বড় জনসমাগমের এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা ইউনিট সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে চলেছে, যা কর্তৃপক্ষের কৌশলগত ধীরগতি নির্দেশ করে। তবে এই সংযম সব জায়গায় সমান নয়; কিছু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ তীব্রতা পেয়েছে।

তেহরানের বাইরে ছোট শহর ও প্রদেশে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা গোষ্ঠী প্রতিবাদকারীদের ওপর সরাসরি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এই পার্থক্য নিরাপত্তা নীতির নির্বাচিত প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়।

ইরানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, যার মধ্যে জার্মানিতে ভিত্তিক কুর্দি-ইরানি মানবাধিকার গোষ্ঠী হেংগাও এবং যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সক্রিয় সংবাদ সংস্থা (HRANA) অন্তর্ভুক্ত, জানিয়েছে যে প্রতিবাদ শুরুর পর থেকে ৪০ টিরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী দমনমূলক পদক্ষেপের তীব্রতা বাড়ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহা খামেনি এই পরিস্থিতিতে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইস্লামিক প্রজাতন্ত্র বিদেশি ষড়যন্ত্রের মুখে হাল ছাড়বে না এবং প্রতিবাদকারীদের কাজকে ‘ভ্যান্ডাল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার ভাষণে প্রতিবাদকে বিদেশি হস্তক্ষেপের ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সম্পত্তি ধ্বংসের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে কিছু প্রতিবাদকারী নিজেদেরই ভবন ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের সন্দেহকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জব্দ করার পর ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা এবং অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর দুর্বলতা এই উদ্বেগকে তীব্র করেছে।

বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে এই ঘটনাগুলি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর সরাসরি আক্রমণ করার জন্য উত্সাহিত করতে পারে, বিশেষ করে যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকে। তাই ইরানীয় কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য সামরিক হুমকির জন্য প্রস্তুতি নিতে হতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য এই গণতান্ত্রিক উত্তেজনার মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলছে। প্রতিবাদ শুরুর পর থেকে তিনি বারবার ইরানের বর্তমান নীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই পরিস্থিতি ইরানের শাসনব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সরকারকে এখন আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ দুটোই সামাল দিতে হবে, আর পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে নিরাপত্তা নীতি, মানবাধিকার রক্ষা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের মোকাবিলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে কীভাবে ইরান এই বহুমুখী সংকটকে পরিচালনা করবে, তা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments