28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধহ্যামবার্গে ২১ বছর বয়সীর অনলাইন আত্মহত্যা উস্কানো মামলায় বিচার শুরু

হ্যামবার্গে ২১ বছর বয়সীর অনলাইন আত্মহত্যা উস্কানো মামলায় বিচার শুরু

হ্যামবার্গের জেলা আদালতে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে অনলাইন মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা উস্কানোর অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন, যাকে শাহী আর জে (Shahriar J) নামে পরিচিত করা হয়েছে, তিনি “হোয়াইট টিগার” ছদ্মনাম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী “764”-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে যে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শাহী আর জে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৩০ টিরও বেশি শিশুকে অনলাইন চ্যাট, সামাজিক মিডিয়া এবং গোপন গ্রুপের মাধ্যমে মানসিকভাবে নির্ভরশীল করে তোলেন এবং তাদেরকে সহিংস, আত্মহত্যা-প্রবণ বা যৌন স্ব-প্রদর্শনমূলক কাজ করতে বাধ্য করেন। তার শিকারদের মধ্যে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অন্তর্ভুক্ত।

ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI) “764” গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক শিশুসংক্রান্ত শোষণ নেটওয়ার্ক এবং নিলিসটিক সহিংস চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এই গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহী আর জে-কে জার্মান এবং ইরানি দু’টি নাগরিকত্ব রয়েছে এবং তিনি গত গ্রীষ্মে হ্যামবার্গে তার পিতামাতার বাড়িতে গ্রেফতার হন।

প্রসিকিউশন অনুযায়ী, অভিযুক্তকে মোট ২০৪টি অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনের মৃত্যুর জন্য একটি হত্যার অভিযোগ এবং পাঁচটি আত্মহত্যা প্রচেষ্টার জন্য পাঁচটি প্রচেষ্টামূলক হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধ সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার মূল দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে শিকারদের মানসিক নির্ভরতা গড়ে তোলা, তাদেরকে শিশুপর্নোগ্রাফি তৈরিতে ব্যবহার করা এবং আত্মহত্যা উস্কানোর জন্য সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া। জার্মান মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বছর বয়সী এক ছেলেকে রিয়েল-টাইম চ্যাটে শাহী আর জের নির্দেশে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়। একইভাবে, কানাডার ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ের আত্মহত্যা প্রচেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউশন আরও উল্লেখ করেছে যে, শাহী আর জে শিকারদেরকে ক্রমবর্ধমান সহিংস ও যৌন বিষয়বস্তু সরবরাহের জন্য নিজেদের শারীরিক ক্ষতি করতে বা যৌন কাজ করতে বাধ্য করতেন, যা সরাসরি লাইভ চ্যাটে ঘটত। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি শিকারদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেন এবং তাদেরকে তার চাহিদা পূরণে বাধ্য করতেন।

অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন যে, সব অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং কল্পিত। তবে আদালত ইতিমধ্যে শাহী আর জের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। পরবর্তী শুনানিতে প্রমাণ উপস্থাপনের পাশাপাশি শিকারদের সাক্ষ্য গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই মামলাটি অনলাইন নিরাপত্তা, শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকারী তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজরদারি এবং সন্দেহজনক আচরণ দ্রুত রিপোর্ট করার ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে, হ্যামবার্গের আদালত শাহী আর জের বিরুদ্ধে প্রমাণের বিশদ বিশ্লেষণ করবে এবং তার বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তি নির্ধারণের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। এই প্রক্রিয়ায় শিকারদের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং তাদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ধরনের সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আইনি কাঠামোর শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন। ভবিষ্যতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে এমন ধরনের শোষণমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অনলাইন পরিবেশে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments