২০ বছর বয়সী উইকেটকিপার‑বাটার, যৌরিয়া ফারদৌসকে জাতীয় দলের প্রথম ডাকা জানানো হয়েছে। তিনি নারী আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারসের প্রস্তুতির জন্য ১৮ জানুয়ারি থেকে নেপালে অনুষ্ঠিত হওয়া টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। এই সুযোগ তার শৈশবের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
যৌরিয়া বললেন, জাতীয় দলে নির্বাচিত হওয়া তার জন্য এক অবর্ণনীয় আনন্দের মুহূর্ত। ছোটবেলা থেকেই দেশের শীর্ষে খেলা তার লক্ষ্য ছিল এবং এখন এই সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের জন্য কিছু ফিরিয়ে দিতে চান।
নির্বাচকরা তার “ক্লিন‑হিটিং” ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। পাওয়ারপ্লে পর্যায়ে দুইজন ফিল্ডার সীমানার বাইরে থাকলে তিনি বড় শট মারতে আত্মবিশ্বাসী বোধ করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে আক্রমণাত্মক খেলার জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।
যৌরিয়া এখনও উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। যদিও দলের ক্যাপ্টেন এবং আরেকজন ওপেনারও উইকেটকিপার, তিনি ইন্টার‑স্কুল পর্যায় থেকে এই কাজটি করে আসছেন। তার মা, যিনি উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক, তাকে গতি‑বোলিংয়ের ঝুঁকি এড়াতে এই পেশা বেছে নিতে উৎসাহিত করেন।
খেলাধুলার ক্ষেত্রে তার পটভূমি বহুমুখী। হকি, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন শাখায় তিনি প্রতিযোগিতা করেছেন এবং ২০২৩ সালের বাংলাদেশ যুব গেমসে তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছেন। এই সাফল্য তার বহুমুখী ক্রীড়া দক্ষতার প্রমাণ।
মায়ের পেশা তার ক্রীড়া জীবনের মূল চালিকাশক্তি। মা যখন বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের জন্য বিভিন্ন খেলায় প্রশিক্ষণ দিতেন, তখন যৌরিয়া স্বাভাবিকভাবেই সেই পরিবেশে নিজেকে যুক্ত করতেন। ফলে তিনি স্কুলের প্রতিযোগিতায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রা। যদিও তিনি সব খেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন না, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ী প্রতিযোগিতায় এখনও অংশ নেন। অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল এবং ভলিবলে তিনি চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন।
যৌরিয়া উল্লেখ করেছেন, এখনো তিনি সব ক্রীড়া নিয়মিতভাবে খেলেন না, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ী ইভেন্টে অংশগ্রহণ তাকে শারীরিক দিক থেকে সক্রিয় রাখে। এই অভিজ্ঞতা তার ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
জাতীয় দলের প্রথম ডাকার পর, তিনি প্রশিক্ষণ শিবিরে মনোযোগী হয়ে টিমের কৌশল ও শারীরিক প্রস্তুতি বাড়াতে কাজ করবেন। কোচিং স্টাফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তিনি নিজের ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং দক্ষতা উন্নত করতে চান।
টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দল নেপালে প্রথম ম্যাচে ১৮ জানুয়ারি খেলবে। যৌরিয়া এই ম্যাচে নিজের ভূমিকা নির্ধারণের জন্য প্রস্তুত, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে সময়ে বড় শট মারার পরিকল্পনা রয়েছে।
তার বহুমুখী ক্রীড়া পটভূমি তাকে মাঠে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। হকি ও কাবাডির শারীরিক চাহিদা, পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্সের গতি, তার ফিল্ডিং ও দৌড়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যৌরিয়া ফারদৌসের এই প্রথম আন্তর্জাতিক দায়িত্ব তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তিনি নিজের সাফল্যকে দেশের গৌরবের সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করবেন।



