পাকিস্তান হাই কমিশনার ইমরান হায়দার ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গুলশান, ঢাকা-তে বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রহমানের সঙ্গে একটি শিষ্টাচারিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। সকাল ৪টা ১৫ মিনিটে হায়দারকে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা স্বাগত জানিয়ে গুলশান অফিসে প্রবেশ করান, এবং প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটে দুজনের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকারটি গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, যা পার্টির উচ্চপদস্থ নেতাদের নিয়মিত কাজের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। হায়দার এবং তারিক রহমান দুজনই পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সুযোগ, এবং বাংলাদেশ‑পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।
দুই পক্ষের আলোচনার সময় বিশেষভাবে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামো, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া উভয় দেশ কীভাবে বাণিজ্যিক বাধা কমিয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়াতে পারে, তা নিয়ে ধারণা শেয়ার করা হয়। পারস্পরিক স্বার্থের এই বিষয়গুলোকে ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়।
হায়দার পূর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করে ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, জিয়ার অকাল মৃত্যু বাংলাদেশ‑পাকিস্তান বন্ধুত্বের জন্য একটি বড় ক্ষতি এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ তারিখে হায়দার একই গুলশান অফিসে গিয়ে একটি শোকবইতে স্বাক্ষর করেন, যেখানে তিনি জিয়ার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে একটি বার্তা রেখে গেছেন। সেই শোকবইটি পার্টির সদস্যদের দ্বারা সংরক্ষিত এবং হায়দারের উপস্থিতি উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
খালেদা জিয়া, যিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর পরিবর্তন দেখা যায়। তার নেতৃত্বে বিএনপি দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করেছে, এবং তার মৃত্যুর পর পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও কূটনৈতিক নীতি পুনর্গঠন প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দীর্ঘ সময়ের পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিহাস ভাগ করে নিয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর থেকে উভয় দেশের কূটনৈতিক সংযোগ পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় দেশ বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এবং এই সাক্ষাৎকারটি সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হায়দার এবং তারিক রহমানের আলোচনার ফলস্বরূপ উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন। এই বৈঠকগুলোতে বাণিজ্যিক চুক্তি, শিক্ষামূলক বিনিময় এবং সংস্কৃতি সংক্রান্ত প্রকল্পের বিবরণ নির্ধারিত হবে। এছাড়া উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা হায়দারের সফরকে পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তারা পার্টির অভ্যন্তরে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পাকিস্তান দিক থেকে হায়দার জানান দিয়েছেন যে, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং উভয় দেশের বাণিজ্যিক পরিসর বাড়াতে নতুন উদ্যোগের প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিশেষ নীতি গঠন করা হবে।
এই সাক্ষাৎকারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় দেশই পরবর্তী মাসে একটি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ আশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ধাপকে বাংলাদেশ‑পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইমরান হায়দার এবং তারিক রহমানের গুলশান অফিসে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারটি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক এবং অর্থনৈতিক ফোরাম উভয় দেশের নেতৃত্বের ইচ্ছা ও প্রস্তুতি প্রকাশ করে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচনে সহায়তা করবে।



