সিলেটের একটি হোটেলে শনিবার ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সম্মেলনের মূল প্রশ্ন ছিল—আইপিএল থেকে বাদ পড়া মুস্তাফিজুর রহমানের চুক্তির বকেয়া অর্থের বিষয়ে কোয়াব কেন সক্রিয় প্রতিবাদ না করে।
মুস্তাফিজের আইপিএল বাদের পর তার চুক্তির কিছু অংশ বকেয়া রইলে, কোয়াব আইনগত পদক্ষেপের সূচনা করে। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন এই উদ্যোগের কথা সম্মেলনে জানালেন।
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক, বর্তমান বিপিএল খেলোয়াড় মিঠুনের পাশাপাশি ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, সাইফ হাসান, ইরফান শুক্কুর এবং শামীম হোসেন। এদের বেশিরভাগই সেই দিন কোনো ম্যাচ না থাকায় উপস্থিত হতে পেরেছিলেন।
সম্মেলনের প্রধান এজেন্ডা ছিল বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের তামিম ইকবালের মন্তব্যের ওপর কোয়াবের কঠোর প্রতিবাদ। তামিমের প্রসঙ্গে কোয়াব তৎক্ষণাৎ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, এরপর বিকেলে সিলেটে একই বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত মতামত পুনরায় তুলে ধরে মিঠুন প্রশ্নের উত্তর দেন—তামিমের বিষয় নিয়ে এত সক্রিয় হওয়া সত্ত্বেও, মুস্তাফিজের আইপিএল বাদের বিষয়ে কেন কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি।
মিঠুন ব্যাখ্যা করেন, কোয়াবের পক্ষ থেকে প্রথমে মুস্তাফিজের সঙ্গে আলোচনা করা হয় এবং বিশ্ব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (WCA) এর সঙ্গে মিটিং করা হয়। “আমরা WCA‑এর সঙ্গে আলোচনা করেছি যে, মুস্তাফিজের জন্য কী কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব,” তিনি বলেন।
WCA থেকে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, যদি মুস্তাফিজ ইচ্ছা করেন, তবে বিশ্বব্যাপী তার জন্য লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ব্যবস্থা করা যাবে। যদিও পুরো বকেয়া অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, তবে যথাসাধ্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা যাবে, এ কথাও মিঠুন উল্লেখ করেন।
তবে পরবর্তী পর্যায়ে কেন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা মিঠুন স্পষ্টভাবে বললেন। “মুস্তাফিজের সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হননি,” তিনি জানান। “এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তিনি বলেছিলেন, ‘এখন আপাতত কিছু না, যদি প্রয়োজন হয় আমি জানাব’।” এই কারণে কোয়াব আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
মিঠুনের মতে, যদি ভবিষ্যতে মুস্তাফিজ নিজে থেকে কোনো সহায়তা চান, কোয়াব আবার সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। বর্তমানে সংগঠন তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং অন্যান্য বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
কোয়াবের এই অবস্থান স্পষ্ট করে যে, তারা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত, তবে তা শুধুমাত্র খেলোয়াড়ের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে সংগঠন তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে।



